ফেসবুক কিংবা টিকটকের স্ক্রল করলেই ইদানীং একটা অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ে—কেউ রাজনীতিতে দলবদল করেছেন, কেউ বা একটি দলের সাপোর্ট থেকে বেরিয়ে অন্য দলে যুক্ত হচ্ছে, আবার কেউ বড় কোনো অপরাধের পর আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন, আর কেউ বা আবার পুরোনো কোনো স্ক্যান্ডাল ভুলে নতুন মানুষ হতে চাইছেন। আর এই সবকিছুকে জাস্টিফাই করতে তারা বেছে নিচ্ছেন এক অদ্ভুত পন্থা—ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে বালতি বালতি দুধ দিয়ে গোসল! সোশ্যাল মিডিয়ায় সস্তা লাইক-কমেন্ট আর মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এটি এখন একটি বড় ‘ভাইরাল ট্রেন্ড’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বাহ্যিক এই নাটকীয়তায় কি সত্যিই অতীত ধুয়ে মুছে যায়, নাকি এটি স্রেফ এক বড় পাপের রাজকীয় আয়োজন?
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ বা নতুন করে উপস্থাপন করার এই সস্তা মানসিকতা আসলে এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক রোগ। কিন্তু এই লোকদেখানো ট্রল বা ট্রেন্ডের পেছনে যে অপরাধটি হচ্ছে, তা অত্যন্ত ভয়াবহ। ইসলামে দুধকে একটি পুষ্টিকর পানীয় এবং আল্লাহর দেওয়া অন্যতম সেরা নেয়ামত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। যেখানে লাখো শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে, সেখানে এক বালতি দুধ শরীরে ঢেলে ড্রেনে ভাসিয়ে দেওয়া চরম অকৃতজ্ঞতা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট সতর্ক করেছেন, তোমরা খাও এবং পান করো, তবে অপচয় করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না। (সূরা আরাফ: ৩১)
যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার জন্য বা নিজেদের জেদ মেটাতে এভাবে খাদ্যের অপচয় করে, কুরআন তাদের শয়তানের ভাই হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। (সূরা বনি ইসরাইল: ২৭)
অনেকে মনে করেন, দুধ দিয়ে গোসল করলে বুঝি অতীতের সব পাপ ও অমঙ্গল দূর হয়ে যায়। এটি একটি মারাত্মক কুসংস্কার। পাপ বা ভুল থেকে মুক্ত হওয়ার একমাত্র উপায় হলো আল্লাহর কাছে খাঁটি মনে 'তাওবা' বা ক্ষমা প্রার্থনা করা। দুধ দিয়ে গোসল করলে আকিদা বা বিশ্বাস নষ্ট হয়, যা একজন মুসলিমকে গুনাহের দিকে ঠেলে দেয়।
ডিজিটাল দুনিয়ার এই যুগে সস্তা ট্রেন্ডের জোয়ারে গা ভাসানো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। পানি দিয়ে শরীর পবিত্র করা যায়, কিন্তু মন বা পাপ পবিত্র করতে প্রয়োজন অনুশোচনার অশ্রু। তাই সমাজকে ও নেটিজেনদের এই বার্তা দেওয়া জরুরি যে—আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতকে ক্যামেরার সামনে অপচয় করে কখনো পাপমুক্ত হওয়া যায় না; বরং তা আল্লাহর অসন্তুষ্টিকেই বাড়িয়ে দেয়।
জা. অর্থনীতি/ উমার