বিনোদন ডেস্ক: ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য। দীর্ঘ দেড় দশক পর তৃণমূল কংগ্রেস শাসনামলের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকার। এই চরম রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে টলি পাড়ায়ও ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা অস্থিরতা দূর করতে উদ্যোগ নিয়েছে নবান্ন। এর অংশ হিসেবে গঠিত হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা কমিটি।
এতে স্থান পেয়েছেন দেব ও হিরণ—সঙ্গে রয়েছেন টলিউডের আরও একঝাঁক প্রথম সারির তারকা ও শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
একসময় ভোটের ময়দানে একে অপরের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন দুই টলিউড তারকা দেব ও হিরণ। নির্বাচনের আবহে তাদের বাকযুদ্ধ বারবার শিরোনামে উঠে এসেছে। রাজনীতির নানা ইস্যুতে সাংসদ দেব এবং বিজেপি বিধায়ক হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়ের সংঘাত ছিল বহুল আলোচিত। তবে, রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে পাশ কাটিয়ে এবার টলিউডের স্বার্থে একই মঞ্চে দেখা যাবে তাদের। রাজ্যের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা অস্থিরতা দূর করতে গঠিত হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা কমিটি। যেখানে দেব ও হিরণ—এর সঙ্গে রয়েছেন টলিউডের আরও একঝাঁক প্রথম সারির তারকা ও শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
সম্প্রতি নবান্নে অনুষ্ঠিত হয় তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এবং চলচ্চিত্র জগতের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। এরপর প্রকাশ্যে এসেছে সেই বৈঠকের কার্যবিবরণী। যেখানে টলিউডের বর্তমান সংকট, প্রশাসনিক কাঠামো এবং শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবনার উল্লেখ রয়েছে।
জানা গেছে, এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায় এবং পাপিয়া অধিকারী। প্রশাসনের পক্ষে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. সুব্রত গুপ্ত, চলচ্চিত্র কর্মকর্তা এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের শীর্ষ ব্যক্তিগণ।
বৈঠকের কার্যবিবরণী অনুযায়ী, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের অধীনে থাকা প্রায় ৪০টি কমিটি ও সংস্থার কার্যকারিতা খতিয়ে দেখা হবে। যেসব সংস্থা একই ধরনের কাজ করছে, সেগুলোকে একত্রিত করার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। সবচেয়ে আলোচ্য বিষয় হলো- এই মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চলচ্চিত্র ও বিনোদন জগতের প্রতিনিধিদের। পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার সভাপতি বা চেয়ারম্যান পদে উপযুক্ত ব্যক্তিদের নামও তারা সুপারিশ করতে পারবেন।
বৈঠকে সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সরকারি অডিটোরিয়াম ও সাংস্কৃতিক হল বরাদ্দের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব করা হয়েছে একটি অভিন্ন আবেদন পদ্ধতি চালুর। যার মাধ্যমে সমস্ত হল বুকিংয়ের আবেদন এক জায়গা থেকে করা যাবে। এর ফলে, প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ হবে বলে মনে করছে প্রশাসন। একইসঙ্গে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের বার্ষিক সাংস্কৃতিক কর্মসূচিগুলোকেও নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন এ কমিটির ফলে পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা অস্থিরতা দূর হবে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, এ কমিটি কতোটা জনবান্ধব ভূমিকা রেখে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।
—জা. অর্থনীতি/এনএ