Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 09:24 am

কিভাবে সাজানো হলো এবারের অস্ট্রিয়া স্কোয়াড

image

অস্ট্রিয়া জাতীয় ফুটবল দল

ডাকনাম: ডাস টিম, বার্সচেন 
কনফেডারেশন: উয়েফা 
প্রধান কোচ: রালফ রাংনিক 
ফিফা র‍্যাংকিং: ২৪

কোয়ালিফিকেশন যাত্রা

উয়েফা বাছাইপর্বে দুর্দান্ত খেলে ‘গ্রুপ এইচ’ এর শীর্ষস্থান অর্জন করে অস্ট্রিয়া চূড়ান্ত পর্বে সরাসরি জায়গা করে নেয়। তারা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, সান মারিনো এবং সাইপ্রাসের মতো দলগুলোর বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে আধিপত্য বজায় রাখে। নভেম্বর ১৮, ২০২৫ সালে বসনিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিশ্বকাপ টিকিট নিশ্চিত হয়।

খেলার ধরন

বল হারালেই প্রতিপক্ষকে দ্রুত চাপ প্রয়োগ করে বল পুনরুদ্ধার করা তাদের খেলার প্রধান স্তম্ভ। অস্ট্রিয়া অহেতুক বল পজিশন ধরে রেখে সময় নষ্ট না করে, দ্রুত ও সোজা প্রতিপক্ষের গোলমুখে বল পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে। রক্ষণভাগে খেলোয়াড়দের মাঝে দূরত্ব খুব কম রেখে ব্লক তৈরি করে, যার ফলে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের জন্য মাঝমাঠ দিয়ে সুযোগ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তারকা খেলোয়াড়

ডেভিড আলাবা, মার্সেল সাবিতজার ও কনরাড লাইমার।
উদীয়মান খেলোয়াড়: ক্রিস্টফ বাউমগার্টনার ও নিকোলাস সেইওয়াল্ড।

কোচের কৌশল

বর্তমান কোচ রালফ রাংনিক একজন জার্মান ট্যাকটিশিয়ান। তিনি তার ৪-২-২-২ (বা ৪-২-৩-১) ফরমেশনে দলকে খেলান যেখানে উইঙ্গাররা মাঝের দিকে চলে আসে এবং ফুল-ব্যাকরা ওভারল্যাপ করে উইং দিয়ে আক্রমণে ওঠে।

শক্তি ও দুর্বলতা

শক্তি: দলগত ঐক্য: কোনো নির্দিষ্ট তারকার ওপর নির্ভর না করে পুরো দল একসঙ্গে আক্রমণ ও রক্ষণে ভূমিকা রাখে। সুইচ প্লে এবং উইং খেলা: উইং বা প্রান্ত ধরে নিখুঁত পাসিং এবং গতিময় কাউন্টার-অ্যাটাকে তারা অত্যন্ত দক্ষ। দুর্বলতা: দীর্ঘ সময় বল পজিশনে রেখে খেলা ধীরগতির দলগুলোর বিপক্ষে মাঝেমধ্যে তাদের রক্ষণ নড়বড়ে হয়ে যায়। 

বিশ্বকাপ ইতিহাস

অস্ট্রিয়া দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষা শেষে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার মাধ্যমে নিজেদের ইতিহাসে অষ্টম বারের মতো বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তাদের সেরা সাফল্য আসে ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে। সেই আসরে তারা তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল। এ ছাড়া তারা ১৯৩৪ বিশ্বকাপে চতুর্থ স্থান লাভ করে। 

স্মরণীয় মুহূর্ত

১৯৫৪ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে দুই দল মিলে ১২টি গোল করেছিল। অস্ট্রিয়া ৭-৫ গোলে ম্যাচটি জিতে নেয়, যা আজও বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোল হওয়ার রেকর্ড।

সংস্কৃতি ও সমর্থক

অস্ট্রিয়ার ফুটবল সংস্কৃতির শেকড় অস্ট্রিয়ানদের ঐতিহ্যবাহী ‘কফি হাউজ কালচার’-এ প্রোথিত। এই পরিবেশ থেকেই ১৯৩০-এর দশকে ফুটবল নিয়ে দেশটিতে উন্মাদনা শুরু হয়। এ ছাড়া ক্লাব ফুটবলে ভিয়েনা ডার্বি ও গ্রাজ ডার্বি তাদের ফুটবল সংস্কৃতির বড় অংশ। অস্ট্রিয়ার জাতীয় দলের সমর্থকরা অত্যন্ত অনুগত। 

মজার তথ্য

১৯৩০-এর দশকের শুরুতে অস্ট্রিয়া ইউরোপের সবচেয়ে অপ্রতিরোধ্য দলগুলোর একটি ছিল। ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে তারা তৃতীয় স্থান অর্জন করে, যা আজও তাদের সেরা সাফল্য।
সম্ভাব্য ফরমেশন: রালফ রাংনিক সাধারণত ৪-২-৩-১ অথবা ৪-৪-২ ফরমেশনে দল সাজান। 

গ্রুপ বিশ্লেষণ

বিশ্বকাপের ‘জে’ গ্রুপে অস্ট্রিয়ার প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও গ্রুপ ফেভারিট আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া ও জর্ডান।

ভবিষ্যদ্বাণী

দলটির জন্য বিশ্বচাপ নেওয়া বা কাপ জেতা কঠিন হলেও, তারা যে কোনো বড় দলের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে। অস্ট্রিয়ার ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।

উক্তি

‘সবার জন্য একটি দল’