৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট! সাধারণ মানুষের মাথায় যখন হিসাবের মেলা, তখন প্রশ্ন জাগে—কীভাবে মিলবে এই বিপুল আয়-ব্যয়ের সমীকরণ? অথচ আজ থেকে হাজার বছর আগেই পবিত্র কোরআন আমাদের শিখিয়েছে এক চমৎকার ও বাস্তবমুখী অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার গল্প।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত এই বিশাল বাজেট দেশের অর্থনীতিতে যেমন আশার আলো দেখাচ্ছে, তেমনি তৈরি করছে বড় চ্যালেঞ্জ। ইসলামে বাজেট কেবল কিছু সংখ্যার খেলা নয়, এটি একটি জাতীয় আমানত। একটি অপরিকল্পিত বাজেট যেমন দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে, তেমনি সঠিক পরিকল্পনা দেশকে নিয়ে যেতে পারে সমৃদ্ধির শিখরে।
ইসলামি অর্থব্যবস্থার মূল সৌন্দর্য হলো—অগ্রাধিকার খাতের সঠিক নির্বাচন। বিলাসী প্রকল্পের পেছনে অর্থ না উড়িয়ে, দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদাকে সবার আগে প্রাধান্য দেওয়া। এই দূরদর্শী বাজেটের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক উদাহরণ হযরত ইউসুফ (আ.)। প্রাচীন মিসরের আসন্ন ১৪ বছরের অর্থনৈতিক সংকট ও মহামারি মোকাবিলায় তিনি যে দূরদর্শী পরিকল্পনা করেছিলেন, তা আজও আধুনিক অর্থনীতির জন্য এক রোল মডেল। তিনি কেবল সমস্যার কথা বলেননি, বরং যোগ্যতা ও সততার সাথে 'বিশ্বস্ত রক্ষক' হিসেবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের দায়িত্ব নিয়ে সংকট দূর করেছিলেন। তা আজ আমাদের জন্য বড় শিক্ষণীয় বিষয়।
বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে একটি সফল বাজেটের জন্য ৩টি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি:
অপচয় রোধ করা: অপ্রয়োজনে বিদ্যুৎ, গ্যাস বা পানির অপচয় ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়কে পঙ্গু করে দেয়। কোরআনের ঘোষণা অনুযায়ী, অপচয়কারী শয়তানের ভাই। পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত লেনদেন নিশ্চিত না করলে পরকালে নিঃস্ব হতে হবে।
দুর্নীতি ও আর্থিক অপরাধ জিরো টলারেন্সে নামানো : সরকারি সম্পদ বা জনগণের আমানত আত্মসাৎ করা ইসলামে জঘন্যতম পাপ। দুর্নীতিবাজ ও কালোবাজারিরা যতই ধার্মিকতার ভান করুক না কেন, হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী পরকালে তারা হবে চূড়ান্ত 'দেউলিয়া বা নিঃস্ব'।
জাকাত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা: ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমাতে জাকাত এক অভাবনীয় হাতিয়ার। সঠিক বণ্টন নিশ্চিত হলে দেশের একটি বড় অংশ দারিদ্র্যসীমার ওপরে চলে আসবে।
ব্যক্তিগত জীবন হোক বা রাষ্ট্রীয় বাজেট—আয় বুঝে ব্যয় করা এবং মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা সুন্নাহর অংশ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যয়ের ক্ষেত্রে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করে, সে কখনো অভাবগ্রস্ত হয় না। আধুনিক এই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইসলামের এই কালোত্তীর্ণ অর্থনৈতিক দর্শনই হতে পারে আমাদের মুক্তির প্রধান চাবিকাঠি।
জা. অর্থনীতি/ উমার