Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 01:40 pm

সর্বপ্রথম হজ পালন করেছিলেন কে?

image

পবিত্র কাবা—পৃথিবীর বুকে আল্লাহর এক অনন্য নিদর্শন এবং তাওহিদের আদি কেন্দ্র। মরুভূমির তপ্ত বালুকারাশি ভেদ করে দাঁড়িয়ে থাকা এই চতুষ্কোণ ঘরটি কেবল পাথর আর গিলাফে মোড়ানো কোনো স্থাপনা নয়; বরং এর প্রতিটি ধূলিকণায় মিশে আছে আসমানি রহস্য, নবিদের পদচিহ্ন আর কোটি কোটি মুমিনের হৃদস্পন্দন। কিন্তু আমরা কি জানি, ইতিহাসের পাতায় সর্বপ্রথম এই পবিত্র ঘরে কে ইবাদত ও হজ শুরু করেছিলেন?

কাবার ইতিহাস হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সময়ের চেয়েও অনেক প্রাচীন। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, মানবজাতির আগমনের বহু আগে থেকেই ফেরেশতারা এই পবিত্র ঘরের চারধারে তাওয়াফ করতেন। ইমাম সুয়ুতি (রহ.)-এর বর্ণনা মতে, ফেরেশতারা তখন থেকেই সেখানে নিয়মিত ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। মূলত সৃষ্টির শুরু থেকেই কাবা ছিল আসমান ও জমিনের আধ্যাত্মিক সম্পর্কের সেতুবন্ধন।

পৃথিবীতে আগত প্রথম মানুষ ও প্রথম নবি হজরত আদম (আ.)-ই হলেন মানবজাতির মধ্যে সর্বপ্রথম হজ পালনকারী। জান্নাত থেকে পৃথিবীতে আগমনের পর মহান আল্লাহর নির্দেশে তিনি এই পবিত্র ঘরে হজ আদায় করেন।

একটি চমৎকার বর্ণনায় এসেছে, হজরত আদম (আ.) যখন হজ পালন শেষ করেন, তখন ফেরেশতারা তার সাথে সাক্ষাৎ করে জিজ্ঞেস করেছিলেন—তিনি কোথা থেকে এসেছেন? উত্তরে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি আল্লাহর ঘর জিয়ারত ও হজ আদায় করে ফিরছেন। তখন ফেরেশতারা তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বলেছিলেন, আপনার হজ কবুল হোক! আপনার আসার দুই হাজার বছর আগে থেকেই আমরা এই ঘরের তাওয়াফ ও ইবাদত করে আসছি।

হজরত আদম (আ.)-এর পর যুগের পর যুগ ধরে নবিদের এই হজযাত্রা অব্যাহত ছিল। হজরত নুহ (আ.)-এর যুগে মহাপ্লাবনের আগে তিনি কাবা শরিফে হজ আদায় করেছিলেন বলে ইতিহাস থেকে জানা যায়। পরবর্তীতে হজরত ইবরাহিম (আ.) ও তার পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) যখন আল্লাহর নির্দেশে কাবার পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন করেন, তখন থেকেই বর্তমান হজের আনুষ্ঠানিকতা পূর্ণতা পায়।

সহিহ মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, আমাদের প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.) এক সফরে বিভিন্ন উপত্যকা অতিক্রম করার সময় আধ্যাত্মিক নূরে অতীতের নবিদের হজ পালনের দৃশ্য অবলোকন করেছিলেন। তিনি দেখেছিলেন—হজরত মুসা (আ.) এবং হজরত ইউনুস (আ.) অত্যন্ত বিনয় ও একাগ্রতার সাথে ‘লাব্বাইক’ ধ্বনি বা তালবিয়া পাঠ করতে করতে আল্লাহর ঘরের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন।

পবিত্র কাবা কেবল একটি নির্দিষ্ট যুগের মানুষের জন্য নয়; বরং এটি সৃষ্টির শুরু থেকে কিয়ামত পর্যন্ত এক চিরন্তন ইবাদত কেন্দ্র। ফেরেশতাদের তাওয়াফ থেকে শুরু করে হজরত আদম (আ.)-এর প্রথম হজ এবং অসংখ্য নবি-রাসুলের দীর্ঘ সফরের এই ধারা প্রমাণ করে যে—হজ কেবল একটি ইবাদত নয়, বরং এটি পরম স্রষ্টার প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের এক শাশ্বত পথ। তাই যখনই কেউ হজের উদ্দেশ্যে কাবার আঙিনায় পা রাখেন, তিনি আসলে আদম (আ.) থেকে শুরু করে শ্রেষ্ঠ নবিদের সেই সোনালি ইতিহাসের অংশ হয়ে যান।

 

 জা. অর্থনীতি/ উমর