Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 01:06 pm

যে কাজে মিলে প্রকৃত স্বামীর পরিচয়

image

ভালোবাসা শুধু সুখের দিনের জন্য নয়, বরং দুঃখ-কষ্টেও তার গভীরতা প্রমাণিত হয়। দুর্ভাগ্যক্রমে যদি কোনো স্ত্রী কঠিন অসুখে আক্রান্ত হন বা তার স্বাস্থ্য ভেঙে যায়, তখন স্বামীর নৈতিক দায়িত্ব হলো তার প্রতি বিশ্বস্ত, আন্তরিক এবং হাসিখুশি থাকা। এই সময়ে আগের চেয়েও বেশি ভালোবাসা ও যত্ন প্রকাশ করা উচিত। কারণ তা স্ত্রীর মনোবেদনা কমাতে সাহায্য করে।

রোগ বা বিপদে স্ত্রীর পাশে থাকা স্বামীর অন্যতম প্রধান কর্তব্য। স্ত্রীর শরীর দুর্বল হয়ে গেলে বা রূপ-লাবণ্য কমে গেলে তাকে অবজ্ঞা বা অবহেলা করা চরম নিষ্ঠুরতা। একজন স্বামীর উচিত তখনো তার মন ভোলানো এবং তাকে আনন্দিত করার চেষ্টা করা। কারণ, সামান্য অবহেলায় একজন অসুস্থ নারীর মন চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যেতে পারে। তার সব শান্তি অশান্তিতে এবং আনন্দ বিষাদে রূপ নিতে পারে। স্বামীর নিষ্ঠুরতা ও বিশ্বাসভঙ্গ তাকে মানসিকভাবে এত আঘাত দিতে পারে যে, দুঃখে-শোকে তার জীবনটাই বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে।

একবার ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখুন, যে নারীকে আপনি তার রূপ-লাবণ্য দেখে ভালোবেসেছিলেন, যার সামান্য ভালোবাসা পাওয়ার জন্য আপনি সবকিছু উজাড় করে দিতে প্রস্তুত ছিলেন- যদি সেই প্রিয়তমা কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে তার রূপ-লাবণ্য হারিয়ে ফেলে বা চিরতরে কোনো প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়; তখন কি তাকে নির্দয়ভাবে ছেড়ে দেবেন? তাকে অবজ্ঞা করবেন? খোঁটা দেবেন? অবলা নারীর তখন কী অবস্থা হবে?

ইসলাম এমন নিষ্ঠুরতার অনুমতি দেয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে রহম করে না, সে রহমপ্রাপ্ত হয় না। (রিয়াজুস সালেহিন) ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততা শুধু সৌন্দর্যের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং এটি একটি পবিত্র বন্ধন, যা সুখ-দুঃখ উভয় সময়েই সমানভাবে দৃঢ় থাকে।

অসুস্থ স্ত্রীর প্রতি স্বামীর বিশ্বস্ত থাকা শুধু একটি মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি ইসলামেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। কঠিন সময়ে স্ত্রীর পাশে থাকা, তাকে ভালোবাসা ও মানসিক শক্তি জোগানো একজন স্বামীর নৈতিক ও ধর্মীয় কর্তব্য। এটি কেবল স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা নয়, বরং আল্লাহর প্রতিও আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ।


জা. অর্থনীতি/ উমর