সেতু-সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত

আল-আমিন হাসান, নিকলী (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের অলি মিয়ার খালের ওপর নির্মিত কারপাশা-সহরমূল সংযোগ সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। সেতুর মাঝের অংশ ধসে যাওয়ার পর স্থানীয় উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছিল বাঁশের সাঁকো। কিন্তু সেটিও এখন ভেঙে অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

ফলে দুই এলাকার মানুষের সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বিকল্প হিসেবে আব্দুল হামিদ সড়ক ঘুরে প্রায় ১ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৫ বছর আগে অতিবৃষ্টির কারণে সেতুর উত্তর পাশের মাটি সরে গিয়ে মাঝের একটি বড় অংশ খালে ধসে পড়ে। এরপর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে সেতুর অবশিষ্ট অংশের সঙ্গে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে সাময়িকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। প্রতিবছর স্থানীয়ভাবে অর্থ সংগ্রহ করে সাঁকোটি মেরামতও করা হয়েছে। তবে বর্তমানে সেটিও ভেঙে যাওয়ায় আর কোনো কার্যকর পারাপারের ব্যবস্থা নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, খালের দুই পাশে সেতুর কংক্রিটের অবশিষ্ট অংশ থাকলেও মাঝখানে কোনো সংযোগ নেই। একসময় পারাপারের জন্য তৈরি করা বাঁশের সাঁকোটিও ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে কারপাশা ও সহরমূলের মধ্যে সরাসরি যাতায়াত কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

সেতুটির গুরুত্ব শুধু দুই গ্রামের যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর পাশেই রয়েছে সহরমূল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ এলাকার বাসিন্দাদের দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। বর্তমানে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে গিয়ে তাদের অতিরিক্ত সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হচ্ছে।

এর আগে সেতুটি নিয়ে বিভিন্ন দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। একটি প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, সেখানে ২৩ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের প্রয়োজন। সে সময় সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় দেড় কোটি টাকা। নতুন সেতু নির্মাণের জন্য নকশা প্রণয়নের উদ্যোগের কথাও জানিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে সেই উদ্যোগের পর প্রকল্পটির বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জনপ্রতিনিধিদের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সেতুটির বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বাস্তব উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনগুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগ অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক সংস্কারের পরিবর্তে অলি মিয়ার খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক। এতে কারপাশা ও সহরমূল এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার সমাধান হবে।