অনলাইন ডেস্ক: ঢাকের তালে উচ্ছ্বাস, ধুনুচি নাচের ছন্দ আর আলোকসজ্জায় ঝলমলে মণ্ডপ-সব মিলিয়ে দুর্গাপূজার আনন্দে মেতে উঠেছে সারাদেশ। তবে উৎসবের শেষ পর্যায়ে এসে আনন্দের পাশাপাশি বিষাদের ছায়াও ঘন হচ্ছে। কারণ, আর মাত্র একদিন পরই প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বাঙালির সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের আয়োজন।
মহানবমীতে শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে শেষবারের মতো প্রতিমা দেখতে বের হন অনেকে। কেউ ছুটে যান জনপ্রিয় মণ্ডপগুলোতে, আবার কেউ পাড়ার পূজার আন্তরিক পরিবেশে সময় কাটান। উৎসবের এই দিনটিতে পুরোনো পরিচিতদের সঙ্গে দেখা হওয়া এবং একসঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়।
নবমীর দুপুরে বিভিন্ন মণ্ডপে ভোগ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। খিচুড়ি, লাবড়া, চাটনি ও পায়েসের মতো খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবে যোগ দেন নানা বয়সী মানুষ। পাশাপাশি ঢাকের তালে ধুনুচি নাচ নবমীর অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। পূজার আয়োজক থেকে শুরু করে দর্শনার্থী-অনেকেই এতে অংশ নেন।
রাতের ঢাকাও সেজেছে উৎসবমুখর। আলোকসজ্জায় সাজানো সড়ক ও মণ্ডপে মানুষের ভিড় দেখা যায়। কেউ প্রিয় মণ্ডপে শেষবারের মতো ঘুরে আসেন, কেউ আবার বাকি থাকা প্রতিমা দর্শন শেষ করার চেষ্টা করেন।
তবে উৎসবের আনন্দের মধ্যেই বিদায়ের ভাবনা মন ভারী করে তোলে। যে প্রতিমাকে ঘিরে দিনভর উচ্ছ্বাস, যে মণ্ডপে জমে ওঠে আড্ডা, সেসব ছেড়ে যাওয়ার সময় ঘনিয়ে আসায় অনেকের মনেই তৈরি হয় বিষণ্ণতা। তাই মহানবমী বাঙালির কাছে আনন্দের পাশাপাশি প্রিয় উৎসবকে আঁকড়ে ধরে রাখার আবেগেরও দিন।
জা.অর্থনীতি/এসআই