জার্মান বিমানবন্দরে যাত্রীর ব্যাগে মিলল ৩৭টি বিষাক্ত সাপ, ৫৫টি গিরগিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জার্মানির কোলন বন বিমানবন্দরে এক যাত্রীর স্যুটকেস তল্লাশি করে ৩৭টি বিষাক্ত সাপ ও ৫৫টি গিরগিটি উদ্ধার করেছেন শুল্ক কর্মকর্তারা। প্লাস্টিকের খাবারের বাক্স, শ্যাম্পুর বোতল, প্রসাধনীর জার ও মোজার ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল প্রাণীগুলো। উদ্ধারের পর জানা যায়, বাতাস চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় কয়েক ডজন প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৫ বছর বয়সী ওই যাত্রী মেক্সিকোর নাগরিক এবং পেশায় অগ্নিনির্বাপণকর্মী। বিমানবন্দরে সবুজ পথ দিয়ে বের হওয়ার সময় তার আচরণে সন্দেহ হয় কর্মকর্তাদের। পরে মাদক শনাক্তকরণ পরীক্ষায় কোকেনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এরপর তার স্যুটকেসে তল্লাশি চালানো হলে মাদকের পরিবর্তে জীবন্ত সাপ ও গিরগিটিগুলোর সন্ধান মেলে।

উদ্ধার হওয়া প্রাণীদের মধ্যে ভাইপার, র‌্যাটলস্নেক ও ইগুয়ানাও রয়েছে। কোলোন কাস্টমস কার্যালয়ের মুখপাত্র জেন্স আহল্যান্ড প্রাণীগুলোকে এভাবে বহন করার ঘটনাকে অমানবিক বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

জিজ্ঞাসাবাদে ওই যাত্রী জানান, ব্রাজিলের এক পরিচিত ব্যক্তির অনুরোধে তিনি প্রাণীগুলো ইউরোপে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে জার্মানির সীমান্ত কর্তৃপক্ষ তাকে দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে তাকে জার্মানিতে প্রবেশ করতে না দিয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ফেরত পাঠানো হয়। জীবিত সাপগুলোকে জার্মানির একটি সাপের খামারে পরিচর্যার জন্য রাখা হয়েছে।

জার্মানিতে বন্য প্রাণী পাচার ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশটিতে ১ হাজার ৩০০টি পৃথক কাস্টমস অভিযানে ৫৬ হাজার ৬০০টির বেশি সংরক্ষিত প্রাণী, উদ্ভিদ ও সেগুলো থেকে তৈরি সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।

জা.অর্থনীতি/এসআই