দরপতনের পর বাছাই করা শেয়ারে ফিরেছেন ক্রেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: টানা কয়েক দিনের দরপতনের পর কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে দেশের পুঁজিবাজারে। তবে এ পুনরুদ্ধার ছিল না ব্যাপকভিত্তিক। সাম্প্রতিক দরপতনে দাম কমে যাওয়া নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের ক্রয় চাপেই গতকাল বুধবার সূচক ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ বিমা, মিউচুয়াল ফান্ড ও কিছু মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ারে আগ্রহ বাড়লেও সামগ্রিক লেনদেন প্রায় অপরিবর্তিত থাকায় বাজারে নতুন তারল্য প্রবেশের স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলেনি।

দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২০ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৪২৯ দশমিক ৩৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএস৩০ সূচক ৩ দশমিক ১৮ পয়েন্ট এবং ডিএসই শরিয়া সূচক ২ দশমিক ৩০ পয়েন্ট বেড়েছে। লেনদেন হওয়া ৩৯৫টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৯৬টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৩৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৬৪টির।

তবে সূচকের উত্থানের সঙ্গে লেনদেন বাড়েনি। প্রধান বাজারে ৪১৬ কোটি ১৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, আগের কার্যদিবসেও যা ছিল প্রায় একই, ৪১৬ কোটি ১১ লাখ টাকা। শেয়ার লেনদেনের পরিমাণও ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমেছে। ফলে দিনের বাজারচিত্রে নতুন করে বড় বিনিয়োগের চেয়ে আগে দর কমে যাওয়া শেয়ারে বাছাই করে কেনার প্রবণতাই বেশি স্পষ্ট হয়েছে।

লেনদেনে সবচেয়ে সক্রিয় ছিল বস্ত্র খাত। এ খাতে ৯২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে, যা মোট লেনদেনের ২৪ শতাংশ। এনভয় টেক্সটাইল ১৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা লেনদেন নিয়ে শীর্ষে থাকলেও শেয়ারটির দর শূন্য দশমিক ৭১ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে সায়হাম টেক্সটাইলের দর বেড়েছে ৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ; কোম্পানিটির শেয়ারে লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ১২ লাখ টাকা। অর্থাৎ একই খাতের মধ্যেও বিনিয়োগকারীদের পছন্দে স্পষ্ট পার্থক্য ছিল।

সাধারণ বিমা খাতেও ক্রেতাদের সক্রিয়তা ছিল উল্লেখযোগ্য। খাতটির লেনদেন হয়েছে ৫১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং দর বেড়েছে ২ শতাংশ। প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স ও প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারে যথাক্রমে ৭ দশমিক ১৩ ও ৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ দরবৃদ্ধি হয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ডেও ৩৩ কোটি ২ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। সাম্প্রতিক দরপতনের পর এসব খাতে সস্তায় শেয়ার কেনার প্রবণতা লেনদেনে প্রভাব ফেলেছে।

তবে সব খাতে ক্রেতাদের আগ্রহ দেখা যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে দরবৃদ্ধি পাওয়া পাট খাতে মুনাফা তুলে নেওয়ার চাপ ছিল। খাতটি ৪ শতাংশ কমেছে এবং সোনালি আঁশের দর ৪ দশমিক ৯ শতাংশ নেমেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতও শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে।

সূচকের পুনরুদ্ধারে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। কোম্পানিটি ডিএসইএক্সে ৪ দশমিক ৭ পয়েন্ট ইতিবাচক অবদান রেখেছে। পাশাপাশি ব্লক মার্কেটে কোম্পানিটির ১০ কোটি ৯০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে সক্রিয় থাকা সোনালি আঁশে মুনাফা তুলে নেওয়ার চাপ দেখা গেছে।

বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের ধরনেও বাজারের সতর্কতা স্পষ্ট। বুধবারের মোট লেনদেনের ৯১ দশমিক ৬৪ শতাংশ এসেছে খুচরা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশ ছিল মাত্র ৪ দশমিক ২০ শতাংশ। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রিও ছিল কেনার তুলনায় বেশি। ফলে সূচকের ২০ পয়েন্টের উত্থান হলেও প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন নিয়ে শক্তিশালী বাজার পুনরুদ্ধারের চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে ব্লক মার্কেটে ৩১টি সিকিউরিটিজে মোট ২৮ কোটি ৯৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যমুনা ব্যাংক, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, অ্যাপেক্স স্পিনিং ও ব্র্যাক ব্যাংকে বড় অঙ্কের শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এতে বাজারের নির্দিষ্ট অংশে বড় বিনিয়োগকারীদের অবস্থান পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত মিলছে।