অনলাইন ডেস্ক: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। ১ জুলাই থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ৮ দশমিক ৯৭৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৭ দশমিক ৭২৬ বিলিয়ন ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৬ দশমিক ২ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুধু ১ থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে এসেছে ৩৮৮ মিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৪১ মিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে চার দিনের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১৭৫ শতাংশ। এর মধ্যে ৪ অক্টোবর একদিনেই প্রবাসীরা দেশে ১৮১ মিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন।
এর আগে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক, অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৮ দশমিক ৫৯১ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ৫৮৬ বিলিয়ন ডলার। ফলে প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে ২ দশমিক ৭৪৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, রেমিট্যান্সের এই প্রবৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে আগস্ট শেষে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক ৩৫২ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএমসি পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩২ দশমিক ৪৪২ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসিক তথ্যেও চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহের শক্তিশালী অবস্থান দেখা যাচ্ছে। জুলাইয়ে ২ দশমিক ৮৫৯ বিলিয়ন এবং আগস্টে ২ দশমিক ৯৬৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্বস্তি বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় মেটাতে বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বৃদ্ধি, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতেও এটি সহায়ক হবে।
—জা.অর্থনীতি/আরএস
