সালিশ শুরুর আগেই ২ পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৪০
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে হাওরে মাছ ধরা ও রিং জাল চুরিকে কেন্দ্র করে বর্তমান ও সাবেক ইউপি সদস্যের অনুসারীদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিরোধ নিষ্পত্তিতে আয়োজিত সালিশ বৈঠক শুরুর আগেই দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে মিঠামইন উপজেলার বৈরাটি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইমামনগর গ্রামে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘাতের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, হাওরে মাছ ধরা ও রিং জাল চুরিকে কেন্দ্র করে ইমামনগর গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য হান্নান মিয়া এবং সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফের সমর্থক ও লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে শুক্রবার সকালে বৈরাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ গ্রামের এক স্থানে মীমাংসা বৈঠকের আয়োজন করেন।

তবে সালিশ বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের সমর্থকরা দা, বল্লম, টেঁটাসহ নানা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ইমামনগর গ্রামের সামনের খোলা মাঠে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘাত। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন রক্তাক্ত আহত হন। পরে গ্রামবাসী ও মাতব্বরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৈরাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম জানান, "দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যেই সালিশ ডেকেছিলাম। কিন্তু সালিশদারদের উপস্থিতিতেই তারা বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে এবং হঠাৎ মাঠে গিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় সংঘর্ষ থামানো সম্ভব হয়।"

অষ্টগ্রাম সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এসএএসপি) মো. দিদারুল ইসলাম জানান, "ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও শান্ত রয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

—জা. অর্থনীতি/এলএটি