দুইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা, ফিরল পুরোনো স্মৃতিও
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দুই শতকের ঐতিহ্যবাহী লোকজ সংস্কৃতি ও বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণ ‘গুড়পুকুর মেলা’র বর্ণাঢ্য আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ফিতা কেটে ও বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে ২০ দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ এম রহমতুল্লাহ পলাশ, সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আসাদুজ্জামান এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত। উৎসবমুখর আবহ্যে উদ্বোধন শেষে অতিথিবৃন্দ মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

এবারের মেলার সার্বিক আয়োজনে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কজুড়ে স্থান পেয়েছে প্রায় ১৬০টিরও বেশি স্টল। এর মধ্যে রয়েছে প্রথাগত মনোহরি সামগ্রী, গৃহস্থালি লৌহজাত দ্রব্য, বাঁশ-বেতের লোকশিল্প, নাগরদোলা, শিশু ট্রেন, নৌকা রাইড এবং ঐতিহ্যবাহী নানা মিষ্টির দোকান। প্রাথমিক সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত এ মেলা চলবে।

পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপের কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ বলেন, "ঐতিহ্যবাহী এই মেলার শৃঙ্খলা ও পরিবেশ রক্ষায় প্রতিটি স্টলে আবশ্যিকভাবে ডাস্টবিন রাখা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিদিন পৌরসভার উদ্যোগে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হবে। শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় পুরো মেলা প্রাঙ্গণ সিসিটিভির আওতাভুক্ত করা হয়েছে এবং ওয়াচ টাওয়ার ও পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।"

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম জানান, মেলাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি ও জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি, সাদা পোশাকে টহল এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মেলা চলাকালে সার্কাস প্যান্ডেল ও স্থানীয় সিনেমা হলে এক ভয়াবহ বোমা হামলায় ৩ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর দীর্ঘদিন মেলার জাঁকজমক ও ঐতিহ্য স্থগিত ছিল। ভাদ্র সংক্রান্তিতে প্রথা অনুযায়ী সম্প্রতি ঐতিহ্যবাহী মনসা পূজা সম্পন্ন হওয়ায় প্রচিছন্ন নিরাপত্তা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পুনরায় এই মেলা শুরু হওয়ায় জেলাজুড়ে ব্যাপক আনন্দের জোয়ার বইছে।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি