শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা সীমান্তে প্রায় পৌনে ৮ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণের একটি চালানের সঙ্গে জড়িত মূল চক্র, নেপথ্যের অর্থ জোগানদাতা এবং প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের পরিচয় অধরা রয়ে গেছে। এর মধ্যেই দিনের বেলা অভিযান চালিয়ে কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দের পর গভীর রাতে হাতে গোনা কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়ে রহস্যজনক বিজিবির প্রেস ব্রিফিং আয়োজনের ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া বাজারের বাবু মার্কেটের সামনে এক অভিযানে ৩ কেজি ৪৩৮ গ্রাম ওজনের ২৬টি স্বর্ণের বারসহ রিপন হোসেন (৪১) নামের এক বাহককে আটক করে খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ কোটি ৬৭ লাখ ৫৫ হাজার ৬৯০ টাকা। এ ছাড়া পাচারে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল, দুটি মোবাইল ও একটি স্মার্টওয়াচসহ মোট সিজার মূল্য ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৭২ লাখ ৭ হাজার ৬৯০ টাকা। আটক রিপন বসতপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সীমান্ত সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, অভিযানের সময় দুটি মোটরসাইকেলে দুজন পাচারকারী অবস্থান করছিলেন। আটক রিপনের সহযোগী হিসেবে মহাসিন কবির (৩২) নামে অপর এক যুবক উপস্থিত থাকলেও বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে সে দ্রুত কৌশলে পালিয়ে যায়। তবে গভীর রাতে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তির বিষয়ে কিংবা উদ্ধার অভিযানে দুটি মোটরসাইকেল পাওয়ার কোনো ব্যাখ্যা বিজিবির পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে বিশাল পরিমাণের স্বর্ণের চালান জব্দ করার পর দীর্ঘসময় তথ্য গোপন রাখা এবং দিবাগত রাত ২টা ২৬ মিনিটে সীমান্তবর্তী একটি দুর্গম এলাকায় কয়েকজন পছন্দসই সাংবাদিক ডেকে সংবাদ সম্মেলন করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় পেশাদার সাংবাদিকেরা। গণমাধ্যমকর্মীদের অভিযোগ, বিজিবির এমন আচরণের কারণে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তথ্য সংগ্রহ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হয়েছে। একটি সীমান্ত সংবেদনশীল এলাকায় তথ্যের আড়াল ও নির্দিষ্ট সংবাদকর্মীদের নিয়ে গভীর রাতের এমন ব্রিফিং পেশাগত বৈষম্যের শামিল বলে দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শার্শা সীমান্তে বারবার শুধু স্বর্ণের বাহক আটক হলেও মূল হোতারা সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী এক নেতার মদদে আন্তর্জাতিক এই চোরাচালান সিন্ডিকেট পরিচালিত হলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই।
তবে গভীর রাতের প্রেস ব্রিফিংয়ে খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাফিজ ইমতিয়াজ আহসান জানান, সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতেই রুদ্রপুর বিওপির দল বাগআঁচড়া বাজারে অভিযান চালিয়ে ২৬টি স্বর্ণের বারসহ আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়। জব্দকৃত স্বর্ণ যশোর ট্রেজারি অফিসে জমা দেওয়া এবং আটক রিপনকে শার্শা থানায় সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সীমান্তের বাসিন্দা ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কেবল বহনকারীকে আটক করে মামলা দিলেই সীমান্ত চোরাচালান বন্ধ হবে না; ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নেপথ্যে থাকা গডফাদার ও আন্তর্জাতিক চক্রকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি