ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন ৯ বার ভিটেহারা নাছিরন বেওয়া
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামে উগ্র রূপ ধারণ করা ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ রূপ ও ক্রমাগত ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের প্রবীণ অধিবাসী নাছিরন বেওয়া (৬২)। জীবনে এক নয়, দুই নয়, এ পর্যন্ত মোট ৯ বার ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে ঘর সরাতে বাধ্য হয়েছেন এই সহায়সম্বলহীন নারী।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের উত্তর নামাজের চর এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে এই করুণ চিত্র দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ দিনের ব্যবধানে সাহেবের আলগা ইউনিয়নের বিস্তৃত উত্তর নামাজের চর এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে অন্তত ২৫টি বসতবাড়ি, শতাধিক হেক্টর ফসলি জমি, স্থানীয় একটি কাঁচা সড়ক এবং একাধিক বিদ্যুতের খুঁটি। ফলে হবিগঞ্জ বাজারের সঙ্গে আনন্দবাজার ও খেওয়ারচর এলাকার সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ভাঙন আতঙ্কে প্রহর গুনছে উত্তর নামাজের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাহেবের আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঐতিহ্যবাহী হবিগঞ্জ বাজার ও আনন্দবাজার সহ প্রায় ৫০০ বসতবাড়ি।

নদীর তীরে দাঁড়িয়ে কান্নাভেজা কণ্ঠে নাছিরন বেওয়া জানান, স্বামী হারানোর পর ছোট মেয়েকে নিয়ে অন্যের এক শতাংশ জমিতে একচালা ঘরে থাকতেন। সাম্প্রতিক ভাঙনে সেই শেষ আশ্রয়টুকুও নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। এখন অন্যের বাড়ির আঙিনায় কোনোমতে পলিথিন টাঙিয়ে আশ্রয়ে রয়েছেন তিনি।

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা আয়নাল হক ও মহিমা বেগম জানান, চোখের সামনে তাদের চার বিঘা ফসলি জমি ও বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। জীবিকার একমাত্র সম্বল কৃষিজমি হারিয়ে এলাকার শতাধিক পরিবার এখন নিঃস্ব। এ অবস্থায় ভাঙন রোধে স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবিতে গত বুধবার নদীর পাড়ে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী অধিবাসী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, "ব্রহ্মপুত্রের বাম তীরের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ১২০ মিটার এলাকায় ইতিমধ্যে ১২ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে এবং আরও ৬০ মিটার এলাকায় কাজ চলমান। স্থায়ী সমাধানের জন্য নদের বাম তীর রক্ষায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি মেগা প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাবনা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।"

—জা. অর্থনীতি/এলএটি