পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা সদর উপজেলায় অপহৃত ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মোস্তফা প্রামাণিক (৫০) নামের এক প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাবনার রাজপথ; মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে পাবনা শহরের প্রধান সড়ক আব্দুল হামিদ রোডে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে পাবনা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের জেলা শাখা। এতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ১০ বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকে বস্তাবন্দি করে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত বর্বরোচিত ও নিন্দনীয়। জড়িতদের অবিলম্বে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়ার পথে শিশুদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেন তারা।
পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় শিশু কলি। পরিবারের পক্ষ থেকে সদর থানায় অপহরণ মামলা করা হলে অনুসন্ধানে নামে পুলিশ। নিখোঁজের সাত দিন পর গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামে কলির বসতবাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দি গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করায় আজ তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
ওসি তরিকুল ইসলাম আরও জানান, "তদন্তের স্বার্থে এবং অপরাধের মূল নেপথ্য কারণ উদ্ঘাটনে এখনই বিস্তারি জানানো যাচ্ছে না। আগের দায়ের করা অপহরণ মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।"
—জা. অর্থনীতি/এলএটি