নোয়াখালী ক্লাব ফ্যাসিবাদমুক্ত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক: নোয়াখালী ক্লাবকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করা এবং সদস্য পদ না দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আনীত মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও প্রকৃত সত্য প্রকাশ করা হলো।

উপস্থিত প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা আসসালামু আলাইকুম ,
​গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ক্রাইম অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে আমাদের ছবি টাঙিয়ে যে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অসত্য ও কাল্পনিক নাটকমাত্র। মূলত নোয়াখালী ক্লাবের অনিয়ম-দুর্নীতি এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদের অবৈধ আয়ের উৎস বন্ধ হওয়ার ভয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনে আমাদের বিরুদ্ধে এই সাজানো অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

ঘটনার প্রকৃত সত্য ও প্রেক্ষাপট:

সদস্যপদের ফরম সংক্রান্ত অনিয়ম
আমরা যথারীতি নিয়ম মেনে আড়াই মাস আগে নোয়াখালী ক্লাবের সদস্যপদের জন্য লিখিত ফরম পূরণ করে জমা প্রদান করি। কিন্তু ক্লাব কর্তৃপক্ষ আমাদের আবেদন ঝুলিয়ে রেখে অগণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে দেয়।যদিও বিগত এক বছরে পরিচালনা বোর্ডের অনুমতি ছাড়া নিয়মবহির্ভূত ভাবে ৭০০-৭৫০ জন নতুন সদস্য নিয়েছে ক্লাবটি। বেশ কয়েকজন পরিচালক দাবি করেছেন নির্বাচনকে সামনে রেখে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জন্য 

ক্লাব সেক্রেটারি আব্দুল হাই নোয়াখালীর একজন সংসদ সদস্যের  মদদে এমনটি করেছে। ক্লাবের পরিচালনা বোর্ড কার্যত অকার্যকর, এখানে ঐ সংসদ সদস্যের কথাই শেষ কথা। কেউ মুখ খুলতে চাইলেও  তাকে পুলিশ দিয়ে গুন্ডা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে। 

৬ সেপ্টেম্বর  আমরা নির্বাচন কমিশনের নিকট নির্বাচন বন্ধ  ও আমাদের ক্লাবের সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য  আবেদন করি। ৮ সেপ্টেম্বর দাবি বাস্তবায়নের জন্য বিকাল ৪টায় নোয়াখালী ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করি।

১০ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন পদত্যাগ করেন, ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন স্থগিত করে নোটিশ দেওয়া হয়। আমাদের সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইসি কমিটির মিটিং সিদ্ধান্ত নিবেন বলে জানিয়েছেন। 

কারণ জানতে চাওয়া 
আমরা কী কারণে সদস্যপদ পেলাম না—এ বিষয়ে কথা বলতে ও কারণ জানতে ক্লাবে যাই এবং একটি শান্তিপূর্ণ আলোচনা সভায় অংশ নিই।

বহিরাগত টোকাই মাসুদের অনুপ্রবেশ
আলোচনার শেষ পর্যায়ে 'মাসুদ' নামের এক ব্যক্তি একদল টোকাই ও কিশোর গ্যাং নিয়ে সেখানে হাজির হয় এবং আমরা কেন ক্লাবে এসেছি তা নিয়ে অযাচিত প্রশ্ন তোলা ও হট্টগোল শুরু করে। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এই মাসুদ নোয়াখালী ক্লাবের কোনো সদস্যই নয়!

নেপথ্যের রাজনৈতিক ইন্ধন
ক্লাবের সদস্য না হয়েও টোকাই মাসুদের মতো ব্যক্তি কীভাবে বহিরাগত কিশোর গ্যাং নিয়ে ক্লাবে প্রবেশ করার সাহস পায়? কারণ, তার নেপথ্যে রয়েছে নোয়াখালীর একজন প্রভাবশালী সংসদ সদস্য এবং যুবলীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হাই। আব্দুল হাই নোয়াখালী ক্লাবের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক, ঘোষিত নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী, তাদের প্রত্যক্ষ ইন্ধনেই আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করায়। ৬ তারিখের পর থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় মাসুদ তার দলবল নিয়ে ক্লাবে অবস্থা করে। সিসিটিভি ফুটেজ তার রেকর্ড আছে।

আন্দোলনের মূল কারণ ও সাজানো ঘটনার নেপথ্য
​অবৈধ আয়ের উৎস বন্ধের ভয়: নোয়াখালী অঞ্চলের প্রভাবশালি সংসদ সদস্যের  চাঁদাবাজির অন্যতম বড় উৎস হলো নোয়াখালী ক্লাবের ফ্যাসিস্ট সদস্যরা। যুবলীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হাইয়ের মাধ্যমে চাঁদার টাকা সংগ্রহ করে, আমরা নোয়াখালী ক্লাবকে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সদস্য হয়ে ফ্যাসিস্টমুক্ত করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছি। আমাদের এই অবস্থান ২য় দিনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করলে মাসুদের মতো নেশাখোরদের দিয়ে ঝামেলা বাঁধানো হয়, কারণ তারা ভয় পাচ্ছে যে তাদের অবৈধ আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাবে।

​থানায় মিথ্যা অভিযোগ ও পুলিশের তদন্ত
ঘটনার পরদিন মাসুদ রানা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে থানায় গিয়ে তার সোনার চেইন ও মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ প্রশাসন সিসিটিভি ফুটেজ ও সার্বিক ঘটনা তদন্ত করে এই অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি।

​পুলিশকে ম্যানেজ করার ব্যর্থ চেষ্টা
পুলিশ তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় অনৈতিক সুবিধা দিতে ব্যর্থ হয়ে মাসুদ এখন উল্টো দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরপেক্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করছে।

​মাসুদের অপরাধমূলক ইতিহাস, অপকর্ম ও গণধোলাইয়ের বিবরণ

​অপরাধের রেকর্ড
অভিযুক্ত মাসুদ একজন চিহ্নিত অপরাধী ও মাদকাসক্ত। ২০১৯ সালের আগে বিএনপির পার্টি অফিসে অন্যায় কর্মকাণ্ড চালাতে গিয়ে সে সাধারণ মানুষের হাতে গণধোলাইয়ের শিকার হয়। এছাড়া অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য গুলিস্তানেও সে কয়েকবার প্রকাশ্যে গণধোলাই খায়। ২০১৯ সালে অবৈধ উপায়ে মেক্সিকো বোয়াডার পার হয়ে আমেরিকা প্রবেশ করে এবং ব্রাজিল, মেক্সিকো থাকা কালিন সে কোকেন, ড্রাগ বিজেনেসের সাথে জড়িত ছিলো বলে আমরা শুনেছি। 

​দূতাবাসের নামে হুমকি ও হত্যার চক্রান্ত: ইয়াবা আসক্ত মাসুদ রানা নিজেকে আমেরিকান নাগরিক দাবি করে বেপরোয়া আচরণ করছে। সে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়ে বলছে—‘আমেরিকান দূতাবাস তার পাশে দাঁড়াবে, সে যাকে খুশি মারবে এবং হত্যা করে আমেরিকা চলে যাবে।’

​আমেরিকান দূতাবাসের দৃষ্টি আকর্ষণ
একজন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত, মাদকাসক্ত ও ফৌজদারি অপরাধী যদি সত্যিই আমেরিকান নাগরিকত্ব পেয়ে থাকে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে তার আমেরিকান নাগরিকত্ব পুনর্বিবেচনা ও বাতিলের জন্য আমরা ঢাকাস্থ আমেরিকান দূতাবাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

​ আমাদের দাবি :
​১. মিথ্যা অভিযোগ ও ব্যানার টাঙিয়ে মানহানি করার অপরাধে আমরা তার বিরুদ্ধে মানহানি ও আইসিটি আইনে ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছি। এই অপরাধী মাসুদকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি 

২. নোয়াখালী ক্লাবকে অবিলম্বে অবৈধ প্রভাবমুক্ত করে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আমাদের সদস্যপদ কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।

৩.সংসদ সদস্যদের প্রতি আহবান সময় থাকতে ফ্যাসিস্টদের শেল্টার দেওয়া বন্ধ করুন।

৪. মাদকাসক্ত এবং চাঁদাবাজ টোকাই মাসুদ নিজেকে যে আমেরিকার নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশে মাদক ও চাঁদাবাজি বিজনেস করে যেভাবে মানুষকে হয়রানি এবং দেশে বিশৃঙ্খলা করছে তাঁরা বিচার চাই এবং আদৌও সে আমেরিকার নাগরিক কিনা তা US এম্বাসী নিশ্চিত করবে বলে আমরা আপনাদের মাধ্যমে আশা রাখি। 

​উপস্থিত সাংবাদিক ভাইদের বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি, কোনো মাদকাসক্ত বহিরাগত অপরাধীর অপপ্রচারে প্ররোচিত না হয়ে সিসিটিভি ফুটেজ ও সত্য অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরুন।

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ