পাহাড়-টিলা কেটে  ২০০ রিসোর্ট, ৬০টিরও নেই পরিবেশ ছাড়পত্র
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে পাহাড়-টিলা ও বনাঞ্চল কেটে একের পর এক গড়ে উঠছে রিসোর্ট। গত কয়েক বছরে জেলায় এমন রিসোর্টের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০টিতে। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে মাত্র ৬০টি রিসোর্ট তাদের কাছ থেকে পরিবেশ ছাড়পত্র নিয়েছে।

২০০৮ সালে মৌলভীবাজারকে পর্যটন জেলা ঘোষণার পর ২০১৩ সালে শ্রীমঙ্গলে ১৩ একর জায়গাজুড়ে যাত্রা শুরু করে দেশের প্রথম পাঁচ তারকা মানের গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ। এরপর কয়েক বছর নিয়মতান্ত্রিকভাবে কিছু রিসোর্ট গড়ে উঠলেও গত তিন-চার বছরে দ্রুত বদলে গেছে চিত্র। বাসাবাড়ি, পাহাড়-টিলা কেটে কয়েকটি কক্ষ নির্মাণ করেই অনেক প্রতিষ্ঠানকে রিসোর্ট হিসেবে পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি রিসোর্ট শ্রীমঙ্গলে। সেখানে প্রায় ১০৩টি রিসোর্ট রয়েছে। এর মধ্যে শুধু রাধানগর এলাকাতেই রয়েছে ৪০ থেকে ৪৫টি।

মূলধারার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, স্থানীয়রা কয়েক শতক জমি বহিরাগতদের কাছে বিক্রি করছেন। পরে সেখানে একটি ঘর বা কয়েকটি কক্ষ নির্মাণ করেই রিসোর্টের নাম দেওয়া হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা বা নৈশপ্রহরীর ব্যবস্থাও নেই। মালিক নিজেই ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো ঘটনা ঘটলে রাতারাতি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রিসোর্ট পরিচালক বলেন, “আমরা সরকারের সব আইন মেনে রিসোর্ট পরিচালনা করছি। অথচ এখন বেপরোয়াভাবে রিসোর্ট গড়ে উঠছে। এগুলো কীভাবে হচ্ছে, তদারকি করা খুবই প্রয়োজন।”

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমদ বলেন, বেসরকারি জরিপ অনুযায়ী জেলায় প্রায় ২০০টি রিসোর্ট রয়েছে। শুধু শ্রীমঙ্গলেই রয়েছে ১০০টির বেশি। প্রকৃত অর্থে রিসোর্ট বলা যায় এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম। অনেকেই তিন-চারটি কক্ষ নিয়ে রিসোর্টের নামে ব্যবসা করছেন। তার সংস্থার অন্তর্ভুক্ত প্রায় ৬০টি রিসোর্ট রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জাতীয় পরিষদের সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, পাহাড়-টিলা ও বনাঞ্চল কেটে রিসোর্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে প্রাণীদের আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। এসব রিসোর্ট বৈধ না অবৈধভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে, তা তদারকিতে সরকারি উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সরকারের নীতিমালা করা প্রয়োজন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাঈদুল ইসলাম বলেন, তাদের কাছ থেকে ৬০টি রিসোর্ট পরিবেশ ছাড়পত্র নিয়েছে। ২০টি কক্ষ বা তার বেশি কক্ষের রিসোর্টের ছাড়পত্র পরিবেশ অধিদপ্তর দিয়ে থাকে। বাকিগুলো কার কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছে, তা তাদের জানা নেই।

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, পাঁচ তারকা ও তিন তারকা মানের হোটেল-রিসোর্টগুলো তারা দেখাশোনা করেন। যারা রিসোর্ট করছেন, তারা হয়তো কোনো না কোনো বিভাগ থেকে অনুমতি নিচ্ছেন। আবার না-ও নিতে পারেন। বিষয়গুলো তাদের জানা নেই।

এদিকে, পাহাড়-টিলা ও বনাঞ্চল কেটে রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগ এবং অধিকাংশ রিসোর্টের পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকার তথ্যকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যটনের বিকাশের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা ও নিয়ম মেনে রিসোর্ট পরিচালনা নিশ্চিত করা জরুরি।

 

—জা. অর্থনীতি/এলএটি