ইবি প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও ছবি বিশ্লেষণ করে ক্যাম্পাসসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার অন্তত ১৯ জন অস্ত্রধারীর পরিচয় মিলেছে। এদিকে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও ছবি বিশ্লেষণ করে অস্ত্রধারীদের পরিচয় শনাক্তের তথ্য পাওয়া যায়।
শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- পদমদি গ্রামের যুবদলকর্মী হামিম, মানওয়ার, সানওয়ার ও রাজিব, পদমদির ইমন বিশ্বাস, শীতলডাঙার শিমুল, জাঙ্গালিয়া পশ্চিমপাড়ার শাহজাহান খন্দকারের ছেলে সাগর খন্দকার, আনন্দনগরের নাহিদ ও বাঁধন, শেখপাড়ার জিম মন্ডল, নিবিড় মন্ডল, সাইফুল ইসলাম, হিমেস, তৌহিদ ও রাতুল জোর্দার, জিবলু ডেকোরেটর দোকানের মালিকের ছেলে সোহাগ, ডিএম কলেজ ছাত্রদলের সেক্রেটারি হৃদয়, মদনডাঙা হাই স্কুলের এসএসসি ২০২৬ ব্যাচের রাইসুল এবং দশম শ্রেণির মিকদাদ (চরশান্তিডাঙা)।
ইবিতে সহিংসতা ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়ায় সোচ্চারের উদ্বেগ প্রকাশ
এর আগে ছাত্রদলের মিছিলে আসা বহিরাগতদের কয়েকজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ও ক্যাম্পাসের ভেতরে রামদা, কিরিচ, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়। অন্যদিকে পাইপ হাতে ছাত্রশিবিরের কর্মীদেরও বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলের গেটে অবস্থান করতে দেখা যায়। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ বলেন, অস্ত্রধারী ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।
ক্যাম্পাসে অস্ত্রধারীদের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের আগে কোনো মন্তব্য করা যায় না। অস্ত্রধারীদের শনাক্ত করতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বিষয়টি এলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, শনিবার দুপুরে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদল নেতা আলিনূর রহমান বাঁধনের বিরুদ্ধে ছাত্রশিবির নেতা কাজী জুহায়েরকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হলেই এক দফা হট্টগোলের পর ছাত্রশিবির জিয়া মোড়ে এবং ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়। এ সময় উভয় পক্ষের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়।
পরে ছাত্রদলের মিছিলে আসা বহিরাগতদের কয়েকজনকে রামদা, কিরিচ, চাপাতিসহ দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়। গভীর রাত পর্যন্ত উত্তেজনা চলার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে পুলিশ অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদার ও বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইবি প্রশাসন।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি