বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ বাতিলের সময়সীমা বাড়াল কাতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হরমুজ প্রণালিতে এলএনজি পরিবহন এখনো স্বাভাবিক না হওয়ায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত এলএনজি কার্গো বাতিলের সময়সীমা আরও বাড়িয়েছে কাতারএনার্জি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর পর্যন্ত এসব কার্গো বাতিলের ধারা অব্যাহত থাকবে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্রেতাদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে কাতারএনার্জি।

হরমুজ প্রণালিতে এলএনজি পরিবহন বন্ধ থাকাই সরবরাহ বাতিলের প্রধান কারণ। সাম্প্রতিক সময়ে ওই পথ দিয়ে তেল পরিবহন কিছুটা বাড়লেও এলএনজি পরিবহন এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

এদিকে ইউরোপের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় নির্ধারিত কিছু এলএনজি সরবরাহও বাতিল করেছে কাতারএনার্জি। ইতালির জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এডিসন জানিয়েছে, তাদের জন্য নির্ধারিত কার্গো বাতিলের ক্ষেত্রে ‘ফোর্স মেজর’ পরিস্থিতির মেয়াদ নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

রয়টার্সের হিসাবে, হরমুজ সংকটের কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানি সর্বোচ্চ ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটি ৫০৯টি এলএনজি কার্গো রপ্তানি করলেও চলতি সময়ে এখন পর্যন্ত রপ্তানি করতে পেরেছে মাত্র ১৮টি।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি রপ্তানিকারক কাতারের এই সংকটের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশসহ দেশটির ওপর নির্ভরশীল ক্রেতাদের ওপরও। তেলের ক্ষেত্রে বিকল্প রুট বা শিপ-টু-শিপ স্থানান্তরের সুযোগ থাকলেও এলএনজির ক্ষেত্রে এমন বিকল্প ব্যবস্থা কার্যকর নয়। ফলে হরমুজ প্রণালির সংকট দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।

জা.অর্থনীতি/এসআই