অনলাইন ডেস্ক: পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের সহজ শর্তের ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
প্রকল্পের আওতায় খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের ২৬টি দুর্গম উপজেলায় বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা হবে। এতে অন্তত ৮৮ হাজার নতুন পরিবার বিদ্যুতের আওতায় আসবে, যার মধ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৩৫ হাজার পরিবার রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ছয়টি ৩৩/১১ কিলোভোল্ট উপকেন্দ্র নির্মাণ এবং ৫ হাজার ৩২ কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ১ হাজার ৮৭৪ কিলোমিটার পুরোনো বিতরণ লাইন, চারটি উপকেন্দ্র, একটি সুইচিং স্টেশন ও একটি আঞ্চলিক মেরামত কর্মশালা আধুনিকায়ন করা হবে।
এডিবি জানিয়েছে, এতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কারিগরি ক্ষতি ও পরিচালন ব্যয় কমার পাশাপাশি গ্রিডের দক্ষতা বাড়বে। প্রতিবছর প্রায় ১৯ হাজার ৩০০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন এড়ানো সম্ভব হবে।
বর্তমানে খাগড়াছড়িতে ৪৯ শতাংশ, রাঙামাটিতে ৪৩ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪১ শতাংশ মানুষ গ্রিড বিদ্যুতের আওতায় রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২০৩২ সালের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুতের আওতা ৬৮ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ও ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের উপযোগী করে গ্রিড প্রস্তুত করা হবে। অন্তত ৩০টি সৌরবিদ্যুৎচালিত নিরাপদ পানির ব্যবস্থা এবং ২০টি প্রতিষ্ঠান-স্কুল, হাসপাতাল, মন্দির ও ক্লিনিকে-সৌরবিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।
এ ছাড়া এক হাজার মানুষকে জীবিকা উন্নয়নবিষয়ক প্রশিক্ষণ, ২০০ জনের বেশি উদ্যোক্তাকে ব্যবসা বিকাশে সহায়তা এবং ৩০০ শিক্ষার্থীকে জ্বালানি খাতে কর্মসংস্থান ও দুর্যোগ সহনশীল জ্বালানি ব্যবস্থা বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।
প্রকল্পে এডিবির ঋণের পাশাপাশি জাপান সরকারের অর্থায়নে ২৭ লাখ ২০ হাজার ডলারের অনুদান দেওয়া হবে। বাংলাদেশ সরকার দেবে ৩ কোটি ৬৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং বিপিডিবি দেবে ৪ কোটি ৫৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার।
জা.অর্থনীতি/এসআই