সাড়ে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে কাপ্তাই হ্রদে শুরু মৎস্য আহরণ
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

রাঙামাটি প্রতিনিধি: তিন মাস ১৬ দিনের দীর্ঘ আইনি নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও মুখরিত হয়ে উঠেছে পার্বত্য রাঙামাটির ঐতিহ্যবাহী কাপ্তাই হ্রদ। শুরু হয়েছে পুরোদমে মৎস্য আহরণ ও বিকিকিনি।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মধ্যরাত (১২টা ১ মিনিট) থেকে কাপ্তাই হ্রদে আনুষ্ঠানিকভাবে সব ধরনের মৎস্য আহরণ শুরু হয়।

এর আগে কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু প্রজনন, অবাদ বংশবৃদ্ধি, প্রাকৃতিক মজুত ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে গত ২৫ এপ্রিল থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সব ধরনের মাছ আহরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল প্রশাসন। পরবর্তীতে মাছের প্রত্যাশিত বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ নিষেধাজ্ঞার মেয়ার আরও ১০ দিন বাড়ানো হয়েছিল।

নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল থেকেই জেলেপল্লীগুলো থেকে জাল, নৌকা ও ট্রলার নিয়ে হ্রদের অভয়ারণ্য ও নির্দিষ্ট পয়েন্টের উদ্দেশ্যে রওনা হন জেলেরা। মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকেই রাঙামাটি শহরের ফিশারীঘাটসহ বিভিন্ন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মাছ ভর্তি বোট আসতে শুরু করে। মাছ আহরণ শুরু হওয়ায় জেলাজুড়ে বরফ কলগুলোতেও ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। সরকারি রয়্যালটি পরিশোধ করে ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় কাপ্তাই হ্রদের মাছ পাঠাতে শুরু করেছেন।

রাঙামাটি মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. কবির হোসেন আনন্দ প্রকাশ করে জানান, "দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস পর মৎস্য আহরণ শুরু হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। প্রথম দিনে বাজারে চাপিলা ও কাঁচকি মাছের আধিক্যই বেশি দেখা গেছে। তবে মাছের আকার তুলনামূলক কিছুটা ছোট। আর কিছুদিন পার হলে বড় মাছের সঠিক পরিস্থিতি বোঝা যাবে।"

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) রাঙামাটি কেন্দ্র প্রধান ও ব্যবস্থাপক ফয়েজ আল করিম জানান, সকাল থেকেই অবতরণ ঘাটে মাছ আসার পর তা দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হচ্ছে। তবে মাছ ছোট থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, "আমরা মাছ আরও বড় হওয়ার সুযোগ দিতে নিষেধাজ্ঞা আরও ১৫ দিন বাড়ানোর পক্ষে ছিলাম, কিন্তু মৎস্য ব্যবসায়ীদের নানামুখী অনুরোধে তা সম্ভব হয়নি।"

—জা. অর্থনীতি/এলএটি