যে দুই নিয়ামতের ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত
ছবি: সংগৃহীত

মহান আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত মানুষের জীবন ও সময়। জন্মের আগেই আল্লাহ প্রত্যেকের আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করে রাখেন, আর এই নির্ধারিত সময় এক মুহূর্তও কম-বেশি হয় না। আল্লাহ বলেন, নির্ধারিত সময় এলে কাউকে অবকাশ দেওয়া হয় না; মানুষের প্রতিটি কাজ সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত (সুরা মুনাফিকুন, ১১)।

একজন মুমিন জানে তার জীবন সীমিত, তাই প্রতিটি মুহূর্তই মূল্যবান। এই উপলব্ধি তাকে সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে ও পাপ থেকে দূরে রাখে। আল্লাহ সময়ের শপথ করে বলেন, মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত—শুধু তারা ছাড়া যারা ঈমান আনে, সৎকাজ করে এবং পরস্পরকে সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দেয় (সুরা আসর)।
কিয়ামতের দিন প্রতিটি মানুষকে জবাবদিহি করতে হবে—জীবন কীভাবে কাটিয়েছে, আল্লাহপ্রদত্ত সুযোগ কতটা কাজে লাগিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জান্নাতবাসীরা দুনিয়ার কিছুর জন্য আফসোস করবে না, শুধু আফসোস করবে আল্লাহর স্মরণ ছাড়া কাটানো সময়ের জন্য (আল-মুজামুল কাবির)।

মুমিনের জীবন উদ্দেশ্যহীন কর্মকাণ্ডে ভরা হতে পারে না, কারণ সময় আল্লাহর দেওয়া আমানত। আল্লাহ বলেন, সফল তারাই যারা নামাজে বিনয়ী থাকে এবং অসার কাজ থেকে বিরত থাকে (সুরা মুমিনুন)। রাসুল (সা.) বলেন, ইসলামের সৌন্দর্যের নিদর্শন হলো অনর্থক বিষয় পরিহার করা (তিরমিজি)।
বর্তমান প্রযুক্তির যুগে এই শিক্ষা আরও প্রাসঙ্গিক। মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রয়োজনীয় হলেও অনেকে অকারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রল করে সময়, মনোযোগ ও পারিবারিক বন্ধন নষ্ট করছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সুস্থতা ও অবসর—এই দুই নিয়ামতের ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত (বুখারি)।

সাহাবি উমাইর ইবনু হামাম (রা.)-এর ঘটনা এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বদরের প্রাক্কালে জান্নাতের সুসংবাদ শুনে তিনি হাতের খেজুরও শেষ করার সময় নষ্ট না করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং শাহাদাত বরণ করেন (মুসলিম)। মানুষের জীবন সংক্ষিপ্ত হলেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর আমানত, যার সঠিক ব্যবহারই প্রকৃত সফলতার চাবিকাঠি। তাই সময়ের মূল্য উপলব্ধি করে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কল্যাণকর কাজে ব্যয় করাই মুমিনের কর্তব্য।
 

জা. অর্থনীতি/ ওএফএ