নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা—গণভবন। দীর্ঘ সময় ধরে এটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন এবং রাষ্ট্রপরিচালনার অন্যতম কেন্দ্র। এখান থেকেই নেওয়া হয়েছে বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। পরে তা রূপ নেয় সরকারবিরোধী আন্দোলনে। একপর্যায়ে সংঘাত, সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে যান। আর আজ সেই গণভবন নতুন পরিচয়ে—'জুলাই জাদুঘর'।
একসময় গণভবনে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ছিল সীমিত। রাষ্ট্রপরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো এই ভবন থেকেই। আজ সেই গণভবনের পরিচয় বদলে গেছে। এখন এটি ইতিহাসের এক নতুন স্বাক্ষী।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে জাদুঘরটি। প্রথম দিনেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, কখনো ঝুম বৃষ্টি। তবু কমেনি মানুষের আগ্রহ। সকাল থেকেই লম্বা লাইনে অপেক্ষা করেছেন শত শত মানুষ। সবারই কৌতূহল—গণভবনের ভেতরে কী আছে? কেমন ছিল রাষ্ট্রপরিচালনার এই ভবনের ভেতরের পরিবেশ?
সকাল ৯টায় খুলে দেওয়া হয় জাদুঘরের দরজা। ধীরে ধীরে ভেতরে প্রবেশ করেন দর্শনার্থীরা। কেউ ইতিহাস জানতে, কেউ কৌতূহল থেকে, আবার কেউ ২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহকে কাছ থেকে দেখার আগ্রহে এসেছেন।
জাদুঘরের বিভিন্ন অংশে সংরক্ষণ করা হয়েছে শেখ হাসিনার ব্যবহৃত অফিস, বৈঠক কক্ষ এবং নানা সামগ্রী। টেবিল, চেয়ার, বই, নথিসহ অনেক কিছুই রাখা হয়েছে আগের বিন্যাসে, যাতে দর্শনার্থীরা সেই সময়ের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পান।

লাল টেলিফোন
দর্শনার্থীদের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্র একটি লাল টেলিফোন। এতে শোনানো হচ্ছে আন্দোলনের সময় বিভিন্ন ব্যক্তি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনের অডিও, যা জাদুঘরে এভাবেই উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ছবি, নথি, ভিডিও ও বিভিন্ন প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে জুলাই আন্দোলনের নানা ঘটনা।
জুলাই জাদুঘরের গ্যালারিগুলোতে সংরক্ষণ করা হয়েছে গণ-আন্দোলনের নানা স্মৃতি ও নিদর্শন। রয়েছে সেই সময়ের আলোকচিত্র, দেয়াললিখন, গ্রাফিতি-অনুপ্রাণিত শিল্পকর্ম, ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। এছাড়া স্থান পেয়েছে সে সময়ের সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম, প্রতিবেদন, ভিডিও, মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা এবং আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ।
প্রদর্শনী ঘুরে দেখার সময় দর্শনার্থীদের চোখেমুখে ছিল কৌতূহল, বিস্ময় আর নানা অনুভূতির ছাপ। কেউ মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন প্রতিটি তথ্য, কেউ আবার স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলেছেন মোবাইল ফোনে।
ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায় সময়ের সঙ্গে নতুনভাবে মূল্যায়িত হয়। গণভবন থেকে জুলাই জাদুঘরে রূপান্তরও বাংলাদেশের এই সময়ের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি নতুন অধ্যায়। তবে শুরুর প্রথম দিনেই জুলাই জাদুঘর ঘিরে মানুষের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
—জা.অর্থনীতি/আইবিএম