ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নবীনবরণ অনুষ্ঠানে উপাচার্যের বক্তব্য চলাকালে সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচারের দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেছে শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের (স্নাতক) শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে এমন ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ জানান তারা।
এসময় শিক্ষার্থীদের “ম্যাম হত্যার বিচার চাই; উই ওয়ান্ট জাস্টিস ফর সাদিয়া ম্যাম; উই ওয়ান্ট জাস্টিস; ম্যামের বিচার কবে পাব” ইত্যাদি প্রতিবাদী লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করতে দেখা যায়।
ইবি শিক্ষিকা হত্যা মামলার তদন্তে বিলম্ব, ক্ষোভ বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে
এসময় সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান “রুনা ম্যাম কেবল একজন শিক্ষিকাই ছিলেন না, বরং তিনি আমাদের অভিভাবকের মতো আগলে রাখতেন। এমন একজন শিক্ষককে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। এই হত্যাকাণ্ড আমাদের পুরো শিক্ষক ও ছাত্রসমাজকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ক্যাম্পাস বা সমাজের কোথাও আজ মানুষের নিরাপত্তা নেই। ম্যামের হত্যাকারীদের যদি দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হয়, তবে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো। আজকে একজন শিক্ষিকা নিরাপদ নন, কাল যে আমরাও এমন পরিস্থিতির শিকার হবো না, তার নিশ্চয়তা কোথায়? প্রশাসনের কাছে আমাদের জোর দাবি, অনতিবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তার করে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে।”
প্রধানমন্ত্রীর ভেতরে আসলেই ভালোবাসা নাকি সন্ত্রাস বুঝতে পারছি: ইবি বৈছাআ নেতা
শিক্ষার্থীদের দাবি, “রুনা ম্যামের হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রকৃত খুনিদের অনতিবিলম্বে শনাক্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। আমাদের আন্দোলন ও দাবি প্রশাসনের নজরে আসছে না বলে এই ধরনের ব্যতিক্রম প্রতিবাদ করতে বাধ্য হয়েছি। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হতে হবে এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার কাজ সম্পন্ন করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি বা ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে। নিহত শিক্ষিকার পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং তাদের সার্বিক আইনি ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুর থেকে ডুবন্ত শিক্ষার্থী উদ্ধার
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের দ্বিতীয় তলায় সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা-কে তার নিজ অফিস কক্ষে গলায় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন কর্মচারী ফজলুর রহমান৷ এ ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ১০৯ ধারায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান। অভিযুক্তরা হলেন- কর্মচারী ফজলুর রহমান, সাবেক কর্মচারী উপ-রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। এঘটনায় প্রধান আসামি ফজলু কারাগারে থাকলেও অন্যান্য আসামীরা পলাতক।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি