মৃত্যুর পর ঠিক ৪টি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে আপনাকে
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তির কল্যাণ ও দৈনন্দিন ব্যস্ততায় আমাদের জীবন গতিময় হলেও, নীতি-নৈতিকতা ও আত্মসংযমের জায়গাটি দিন দিন ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার অবিরাম স্ক্রলিং আর অন্ধ বস্তুবাদ আমাদের পারলৌকিক জবাবদিহির বোধকে ভুলিয়ে দিচ্ছে। অথচ ইসলামের অন্যতম মূল ভিত্তি হলো আখেরাতে বিশ্বাস। হাদিস অনুযায়ী, কিয়ামতের কঠিন ময়দানে চারটি মৌলিক প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়া ছাড়া কোনো মানুষ এক কদমও সামনে এগোতে পারবে না (তিরমিজি: ২৪১৭)। জীবনের এই সন্ধিক্ষণে এই চার প্রশ্নের বিশ্লেষণ প্রতিটি মুমিনের জন্য গভীরভাবে ভাবার বিষয়:

১. জীবনের সময়ের ব্যবহার: আমরা প্রতিদিনের বহু মূল্যবান সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপচয় করছি। কিন্তু হিসাবের দিনে প্রশ্ন করা হবে। জীবন নামক এই বিশাল আমানতটি আমরা কীভাবে ব্যয় করেছি? অন্যায় ও অর্থহীন কাজে সময় কাটিয়েছে, নাকি পরকালের পাথেয় গোছিয়েছি। তাই এখনই এই বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করা জরুরি।

২. অর্জিত জ্ঞানের প্রয়োগ: তথ্যপ্রযুক্তির যুগে দ্বীনি ও সামাজিক নানা জ্ঞান অর্জন করা আমাদের জন্য আগের চেয়ে অনেক সহজ। কিন্তু শুধুই জ্ঞান অর্জন করা যথেষ্ট নয়; প্রাপ্ত জ্ঞান অনুযায়ী নিজের জীবনে কতটা আমল করেছি, তার চুলচেরা হিসাব দিতে হবে।

৩. সম্পদের উপার্জন ও ব্যয়ের হিসাব: হালাল-হারামের তোয়াক্কা না করে দ্রুত ধনী হওয়ার প্রবণতা বর্তমানে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অথচ অর্থ উপার্জনের উৎস যেমন সৎ হওয়া বাধ্যতামূলক, তেমনি তা কোনো অপচয় বা অবৈধ কাজে খরচ করা হয়েছে কি না—তারও পূর্ণ হিসাব দিতে হবে।

৪. দেহের সুস্থতা ও শক্তির ব্যবহার: আল্লাহপ্রদত্ত সুস্থতা ও শারীরিক শক্তিকে আজ আমরা সাময়িক ভোগবিলাসে ব্যয় করছি। হাশরের দিনে দেহকে কোন কাজে নিয়োজিত রাখা হয়েছিল, সেই বিষয়েও স্পষ্ট জবাবদিহি করতে হবে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা সতর্ক করে বলেছেন, ‘প্রত্যেকে আগামীর জন্য কী অগ্রিম পাঠিয়েছে, তা যেন চিন্তা করে’ (সুরা হাশর: ১৮)। আর রাসুলুল্লাহ (সা.) সে ব্যক্তিকেই বুদ্ধিমান বলেছেন, যে নিজের হিসাব নিজে নেয় এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য আমল করে। (তিরমিজি, ২৪৫৯)

আজকের এই দ্রুত পরিবর্তনশীল পৃথিবীর মোহ কাটিয়ে উঠে নিজের ভেতরের এই চার প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এবং পরকালের প্রস্তুতি নেওয়াই হোক আমাদের প্রধান লক্ষ্য।