ইসলাম ডেস্ক: অধিকার নাকি গুরুদায়িত্ব? বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে চরম পারিবারিক সামাজিক বিতর্ক, আইনি জটিলতা ও দম্পতিদের মধ্যে টানাপোড়েন নিত্যদিনের চিত্র। ইসলামে বিশেষ পরিস্থিতিতে একাধিক বিয়ের অনুমতি দেওয়া হলেও, সমাজে প্রায়ই এটিকে কেবল একটি অধিকার বা স্বীয় ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়। তবে বাস্তবতায় ইসলাম দ্বিতীয় বিয়েকে কঠিন শর্তসাপেক্ষ একটি দায়িত্ব ও আমানত হিসেবে উপস্থাপন করেছে
ইসলামের আলোকে দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্তের আগে যে ৭টি মৌলিক বিষয়ে সচেতন হওয়া আবশ্যক: ১. আর্থিক ও শারীরিক সক্ষমতা: প্রথম ও দ্বিতীয় উভয় স্ত্রীর ভরণপোষণ, চিকিৎসা ও সার্বিক ব্যয় বহনের পর্যাপ্ত সামর্থ্য থাকা ফরজ। আল্লাহ বলেন, পুরুষরা নারীদের অভিভাবক... কারণ তারা নিজেদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে। (সুরা নিসা, ৩৪)। ২. হক ও সময় বণ্টনে চরম ন্যায়বিচার: রাসুল (সা.) হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যার দুজন স্ত্রী আছে কিন্তু সে একজনের দিকে ঝুঁকে পড়ে, কিয়ামতের দিন সে এক পাশ অবশ অবস্থায় উঠবে। (আবু দাউদ)। ৩. অসামর্থ্যে এক স্ত্রীতেই সীমাবদ্ধ থাকা: কুরআন স্পষ্ট বলে, যদি আশঙ্কা করো যে ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে একজনেই সীমাবদ্ধ থাকো। (সুরা নিসা, ৩)। ৪. স্বতন্ত্র বাসস্থানের ব্যবস্থা: ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী, স্ত্রীরা স্বেচ্ছায় রাজী না হলে প্রত্যেকের পৃথক ও নিরাপদ বাসস্থানের অধিকার সুনিশ্চিত করা স্বামীর দায়িত্ব। ৫. সততা ও নৈতিক আচরণ: শরিয়তে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক না হলেও প্রতারণা, মিথ্যা বা অহেতুক কষ্ট দেওয়া সুন্নাহ পরিপন্থী। রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম। (তিরমিজি)। ৬. সামাজিক ও মানবিক উদ্দেশ্য: ভোগবিলাস নয়, বরং আল্লাহভীতি ও আত্মসমালোচনার মাধ্যমে কোনো মানবিক বা সামাজিক প্রয়োজন বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া। ৭. রাষ্ট্রীয় আইন মেনে চলা: প্রচলিত আইন মানাও শরিয়তের নীতি। বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ অনুযায়ী সালিশি কাউন্সিলের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করাও দায়িত্বের অংশ। আবেগ বা প্রবৃত্তির বশে গৃহীত দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত পরিবার ধ্বংসের কারণ হতে পারে। আমানত ও কঠিন জবাবদিহিতার ভয় মাথায় রেখে পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে একটি স্ত্রীতেই সন্তুষ্ট থাকাই দুনিয়া ও আখিরাতে নিরাপদ। জা. অর্থনীতি/ উমার
