ফোনে বিজয়ের খবর দেওয়ার পরপরই আমার ছেলে পুলিশের গুলিতে মারা যায়
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

কুবি প্রতিনিধি: "আম্মু, শেখ হাসিনা পালাইছে, শেখ হাসিনা পালাইছে।"— এটিই ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হামিদুর রহমান মজুমদার সাদমানের মায়ের সাথে তার শেষ ফোনালাপ। বিজয়ের উচ্ছ্বাসে মায়ের কাছে করা সেই ফোনকলের কিছুক্ষণ পরই রাজধানীর বংশাল থানার সামনে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান তিনি।

রোববার (১২ জুলাই) বিকেল ৩টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) মুক্তমঞ্চে ‘প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ছেলে হারানোর সেই বিভীষিকাময় দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কথাগুলো বলেন শহীদ সাদমানের মা কাজী শারমিন আক্তার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম।

শহীদ সাদমানের বাড়ি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার দীঘলগাঁও গ্রামে। তিনি সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কাজী শারমিন আক্তার বলেন, "ইন্টার্নশিপের জন্য সাদমান ঢাকায় গিয়েছিল। পরে কুমিল্লায় ফিরে এলেও 'লং মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচির ডাক পেয়ে আবার ঢাকায় চলে যায়। আমরা অনেক নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু সে বলেছিল— 'আম্মু, আপনি তো আন্দোলনে যান, আমাকে কেন মানা করছেন?'"

তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার খবর জানিয়ে ছেলে তাকে আনন্দের সাথে ফোন করেছিল। এরপর বন্ধুদের সঙ্গে গণভবনের উদ্দেশে রওনা দেয় সে। কিন্তু বংশাল থানার সামনে পৌঁছালে পুলিশের ছোড়া একটি গুলি তার বুকের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সে শহীদ হয়। বন্ধুদের কারণে দ্রুত লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আর কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়, সেই আকুতি জানান এবং ছেলের জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

‘প্রতিরোধ দিবস’ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পিএসসি সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান। বক্তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি ধরে রাখার এবং আহত ও শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি