বিয়ের কিছুদিন পর স্ত্রীকে কেনো ভালালাগে না?
ছবি: সংগৃহীত

একটি চিরচেনা দৃশ্য দিয়ে শুরু করা যাক। দিনশেষে স্বামী বাসায় ফিরলেন, কিন্তু তার চোখজোড়া তখনো আটকে আছে মোবাইলের স্ক্রিনে,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কৃত্রিম আর চটকদার সৌন্দর্যের মোহে। অথচ ঘরের এক কোণে অপেক্ষারত যে স্ত্রী, তাকে আজ বড্ড মলিন আর একঘেয়ে লাগছে।

আজকের দিনে অনেক পুরুষের মুখেই একটা আফসোস শোনা যায়, আগের মতো স্ত্রীকে আর সুন্দর লাগে না। আমরা খুব সহজেই এর দায় চাপিয়ে দিই স্ত্রীর বয়স, মেদ কিংবা সংসারের একঘেয়েমির ওপর। কিন্তু সত্যি কি সমস্যাটা স্ত্রীর? নাকি অদৃশ্য এক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বদলে গেছে স্বামীর নিজস্ব দৃষ্টিশক্তি?

আজকের ডিজিটাল যুগে হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোনের একেকটি স্ক্রল যেন একেকটি অদৃশ্য ফাঁদ। চোখের সামনে প্রতিনিয়ত ভেসে উঠছে শত শত পরনারীর ফিল্টার করা কৃত্রিম রূপ। যখন একটি চোখ অনবরত এই 'হারাম' বা নিষিদ্ধ সৌন্দর্যে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন ঘরে থাকা 'হালাল' ও স্বাভাবিক সম্পর্কের প্রতি আকর্ষণ কমতে বাধ্য।

মনস্তাত্ত্বিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এর ব্যাখ্যা একটাই, নিষিদ্ধ বস্তু কখনো মানুষের মনকে তৃপ্ত করে না, বরং লালসা ও অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে ঘরের পবিত্র সম্পর্কটি তার নিজস্ব মাধুর্য হারায়। যে চোখ হারাম থেকে নিজেকে ফিরিয়ে নেয়, সেই চোখই হালালের প্রকৃত সৌন্দর্য নতুন করে আবিষ্কার করতে পারে।

ইসলাম এই মনস্তাত্ত্বিক সংকটের সমাধান দিয়েছে আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগেই। পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নূরের ৩০ আয়াতে মুমিন পুরুষদের সর্বপ্রথম নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখার জন্য। আল্লাহর রাসূল (সা.) ও আকস্মিক দৃষ্টি পড়ে গেলে তা দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন এবং একে চোখের ব্যভিচার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

দৃষ্টি সংযত রাখা কেবল একটি ধর্মীয় ইবাদতই নয়, এটি একটি সুখী দাম্পত্যের মূল চাবিকাঠি। নিজের চোখকে যখন আপনি চারপাশের কৃত্রিমতা থেকে বাঁচিয়ে রাখবেন, তখন স্ত্রীর ত্যাগ, ভালোবাসা এবং ভেতরের আসল সৌন্দর্য আপনার হৃদয়ে নতুন করে দোলা দেবে।

সংসারের সুখ আর ভালোবাসা ফিরিয়ে আনার জন্য কোনো নতুন মানুষ কিংবা নতুন সম্পর্কের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু নিজের ক্ষয়ে যাওয়া ঈমানকে জাগ্রত করা এবং দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা। স্ত্রী বদলে যাননি, বদলে গেছে আপনার দেখার চোখ। আজই আপনার চোখজোড়াকে মুক্ত করুন হারামের বন্দিদশা থেকে; দেখবেন, আপনার চেনা ঘরটিই আবার ভালোবাসার জান্নাত হয়ে উঠেছে।

জা.অর্থনীতি/ উমার