কর্ণফুলী নদীতে ফিশিং ট্রলারে আগুন: দগ্ধ ২ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক: চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করে রাখা একটি মাছ ধরার ট্রলারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ ছয়জনের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে তাদের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন- ট্রলারের গ্রিজার রুবেল ও শাহ আলম।

অগ্নিকাণ্ডের শিকার ‘এফবি দেশ’ নামের ওই ফিশিং ট্রলারের ক্যাপ্টেন জুবায়ের মাহমুদ জানান, মঙ্গলবার রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পর পথেই তারা মারা যান। পরবর্তীতে পরিবারের ইচ্ছায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ বুধবার (১ জুলাই) সকালে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে তাদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

ট্রলারটির কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ বাকি চারজনের মধ্যে ক্যাডেট ইঞ্জিনিয়ার আশিকুজ্জামান তামিমের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি বর্তমানে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।

এছাড়া সামান্য দগ্ধ বাকি তিন কর্মী- উইন্স অপারেটর নিজাম উদ্দিন, ডুবুরি রাসেল ও নাবিক সিদ্দিক আহমেদ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে নিজ নিজ বাসায় ফিরে গেছেন।

জাহাজের নাবিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাগর থেকে মাছ ধরা শেষে গত সোমবার (২৯ জুন) দুপুর ২টার দিকে কর্ণফুলী নদীর সদরঘাট সাম্পান ঘাট সংলগ্ন অংশে নোঙর করে ফিশিং ট্রলার ‘এফবি দেশ’।

পরদিন মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১টার দিকে জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষে হঠাৎ বিকট শব্দ হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায়। ট্রলারটির কর্মকর্তাদের ধারণা, জেনারেটরের বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। ঘটনার পর তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় জাহাজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ক্যাপ্টেন জুবায়ের মাহমুদ নগরীর সদরঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জা.অর্থনীতি/এসআই