আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসলামি ক্যালেন্ডারের অন্যতম পবিত্র ও সংবেদনশীল মাস মহররমের একটি অনুষ্ঠান সম্প্রচারকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘জিও নিউজ’-এর লাইসেন্স ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করেছে দেশটির গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৬ জুন জিও নিউজে প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানে কিছু ধর্মীয় দৃশ্যায়ন দেখানো হয়। এই কনটেন্টটি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে, ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকেই চ্যানেলটির বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
লাইসেন্স স্থগিতের পর রোববার (২৮ জুন) জিও নিউজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়া হয়েছে।
চ্যানেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উপাদানগুলো ভুলবশত সম্প্রচারিত হয়েছিল। এটি কোনোভাবেই চ্যানেলের সম্পাদকীয় অবস্থান বা বিশ্বাসকে প্রতিফলিত করে না। বিতর্কিত সেই ফুটেজটি ইতিমধ্যেই তাদের সমস্ত প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জিও নিউজ আরও স্পষ্ট করেছে, ওই ফুটেজে মূলত ইরাক ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অঞ্চলের স্থানীয় ধর্মীয় রীতিনীতি দেখানো হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল কেবল স্থানীয় সংস্কৃতি তুলে ধরা, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় মতামতকে সমর্থন বা প্রচার করা নয়।
পাকিস্তানের মিডিয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, জিও নিউজ সম্পাদকীয় সতর্কতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য চ্যানেলটিকে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভিযোগ কাউন্সিলের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
পাকিস্তানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং অন্যান্য সম্মানিত ইসলামি ব্যক্তিত্বদের চিত্রায়ণ বা ধর্মীয় যেকোনো স্পর্শকাতর বিষয় অত্যন্ত আবেগঘন ও সংবেদনশীল। এর আগে পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রকাশিত বিভিন্ন ব্যঙ্গচিত্রের প্রতিবাদে পাকিস্তানে ব্যাপক গণবিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে মহররম মাসে যেকোনো ধরনের ধর্মীয় বিতর্ক এড়াতে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
পাকিস্তানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা রয়েছে। দেশটির টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে প্রায়শই বিভিন্ন আইনি নোটিশ, সম্প্রচার নিষেধাজ্ঞা ও সাময়িক স্থগিতাদেশের মুখোমুখি হতে হয়।
উল্লেখ্য, বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক ২০২৬-এ ১৮০টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৩তম। সূত্র: রয়টার্স
—জা.অর্থনীতি/এসআই/এনজে