পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পাখিমারা আউটলেট শাখা থেকে গ্রাহকদের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফ উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৯ জুন) সকাল থেকে নিজেদের সর্বস্ব পুঁজি হারিয়ে কয়েকশো গ্রাহক ব্যাংক শাখাটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করছেন।
ব্যাংক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে আউটলেটের ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফকে খুঁজে পাচ্ছিল না ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ থাকায় সন্দেহ তীব্র হয়। এরপর গ্রাহকরা ব্যাংকে টাকা তুলতে এসে দেখেন তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা নেই। এমনকি ব্যাংকের মূল ‘মাদার অ্যাকাউন্ট’ শূন্য করেও টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে রোববার থেকে ব্যাংকে ভিড় বাড়তে থাকে এবং সোমবার শত শত ভুক্তভোগী গ্রাহক ব্যাংক ঘেরাও করেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহক তানজিয়া জানান, তার স্বামীর বিদেশ থেকে পাঠানো ৩ লাখ ২৮ হাজার এবং নিজের জমানো ১ লাখ ১০ হাজার টাকাসহ মোট ৪ লাখ ৩৮ হাজার টাকা অ্যাকাউন্টে ছিল। কিন্তু এখন ব্যালেন্স দেখাচ্ছে মাত্র ১,৫৫৩ টাকা। লস্করপুর গ্রামের রাহিমা বেগম জানান, তার প্রবাসী স্বামী গত বছরের (২০২৫ সালের) নভেম্বর মাসে সাড়ে ৫ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করেছিলেন। ব্যাংক থেকে কাগজও দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে সেই কাগজ ভুয়া এবং ব্যাংকে কোনো টাকাই জমা হয়নি।
গ্রাহকদের অভিযোগ, তাদের ১ লাখ থেকে শুরু করে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা ছিল। কেউ চিকিৎসার জন্য, কেউ বা বিদেশে যাওয়ার জন্য টাকা রেখেছিলেন, যার সবটাই এখন উধাও। এছাড়া ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, অ্যাকাউন্টের খোঁজ নিতে এলে ব্যাংক এজেন্টের ছেলে সাকিব তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করছেন এবং হুমকি দিচ্ছেন। তবে সাকিব এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গ্রাহক ও এলাকাবাসীর দাবি, এই বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের ঘটনার সাথে ব্যাংকের অপারেশন ম্যানেজার রাহাত এবং এজেন্টের লোকজনও জড়িত থাকতে পারে। সঠিক তদন্ত হলে প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে।
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পাখিমারা আউটলেটের এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব বলেন, "ঠিক কত টাকা নিয়ে ক্যাশিয়ার উধাও হয়েছে তা এখনও পরিষ্কার নয়। মাদার অ্যাকাউন্টটিও খালি পাওয়া গেছে। আমরা গ্রাহকদের কাছ থেকে তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করে তালিকা তৈরি করছি। গ্রাহকদের মূলধন ফিরিয়ে দেওয়া হবে।"
নিখোঁজ ক্যাশিয়ারের বাবা সাবেক ইউপি সদস্য আবদুর রহিম বাদশা বলেন, "ছেলেকে গত বৃহস্পতিবার থেকে আমরাও খুঁজে পাচ্ছি না। সে টাকা নিয়ে থাকলে তা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।"
এদিকে এ ঘটনায় কলাপাড়া থানায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে পরিস্থিতি থমথমে থাকায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি রয়েছে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
