জাদুকাটা নদীতে অবৈধ ড্রেজার বন্ধে এমপি কামরুলের হুঁশিয়ারি
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জাদুকাটা নদীতে অবৈধ ড্রেজার মেশিন ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। তিনি বলেছেন, “এরপরও যদি জাদুকাটা নদীতে ড্রেজার চলে, তাহলে আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী ‘সিরিয়াসলি’ অ্যাকশনে যাব।” সংসদ সদস্যের এই মন্তব্যের পর থেকে স্থানীয় জনমনে নানামুখী আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের গড়কাটি গ্রামে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন— সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার জাকির হোসেন, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক, তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক অশোক তালুকদার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক জুনাব আলী এবং মেহেদী হাসান উজ্জ্বলসহ স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সভায় সংসদ সদস্যের দেওয়া এই বক্তব্যকে ঘিরে নদীপাড়ের বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশ প্রশ্ন তুলেছেন, গত চার মাস ধরে জাদুকাটা নদীতে যে অবৈধ ড্রেজারের তাণ্ডব ও নদী ভাঙন চলছে, তা বন্ধে কেন আরও আগে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলো না। তবে সমালোচনার পাশাপাশি নদী ভাঙনে নিঃস্ব হতে চলা অসহায় মানুষগুলো আশা প্রকাশ করেছেন যে, সংসদ সদস্য এবার তার বক্তব্যের বাস্তব প্রতিফলন ঘটাবেন এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় অবৈধ ড্রেজার তাণ্ডব চিরতরে বন্ধে দৃশ্যমান ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

মতবিনিময় সভা শেষে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বাদাঘাট বাজার জামে মসজিদের সামনে স্থানীয় আলেম, ধর্মীয় নেতা ও ইমামদের সাথে আয়োজিত অপর একটি সংক্ষিপ্ত সভায় যোগ দেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে গড়কাটি গ্রামের নিখিল রায়ের ছেলে ও বাদাঘাট সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র প্রিন্স রায় দীপ্ত (২২) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। পোস্টটি ভাইরাল হলে বিকেলে উত্তেজিত জনতা বাদাঘাট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে এবং দীপ্তর বসতবাড়ি ও পারিবারিক মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে তাহিরপুর থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দীপ্ত রায়কে আটক করে।

পরবর্তীতে পুলিশ বাদী হয়ে পেনাল কোড ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের পর বুধবার সকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। মূলত এই ঘটনার পর ওই এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে এই পরিদর্শনে যান সংসদ সদস্য।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি