কিভাবে সাজানো হলো এবারের নিউজিল্যান্ড স্কোয়াড
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

নিউজিল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দল

ডাকনাম: অল হোয়াইটস 

কনফেডারেশন: ওশেনিয়া ফুটবল কনফেডারেশন (ওএফসি)

কোচ: ড্যারেন বেজেলি 

ফিফা র‍্যাংকিং: ৮৫

কোয়ালিফিকেশন যাত্রা

ওএফসি অঞ্চলের বাছাইপর্বে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে নিউজিল্যান্ড সরাসরি ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে। বাছাইপর্বে তারা ফিজি, ভানুয়াতু এবং সামোয়ার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে এবং ফাইনালে নিউ ক্যালেডোনিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেয়।

খেলার ধরন

টেকনিক্যাল ফুটবল, উইং দিয়ে দ্রুত আক্রমণ এবং ফিজিক্যাল স্ট্রেন্থ ব্যবহার করে বল পজিশন ধরে রাখা তাদের খেলার মূল বৈশিষ্ট্য।

তারকা খেলোয়াড়

ক্রিস উড- ইংলিশ ক্লাব নটিংহ্যাম ফরেস্টের এই স্ট্রাইকার দলের প্রধান গোলস্কোরার ও অধিনায়ক। 

উদীয়মান খেলোয়াড়

ইলাইজা জাস্ট ও টাইলার বাইন্ডন। তারা ইতোমধ্যে ইউরোপীয় লিগে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।

কোচের কৌশল

দারেন বেজেলি সাধারণত ৪-৩-৩ বা ৪-২-৩-১ ফরমেশনে দল সাজান। তিনি মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত কাউন্টার-অ্যাটাক-নির্ভর কৌশলে বেশি জোর দেন।

শক্তি ও দুর্বলতা

শক্তি: সেট-পিস (কর্নার ও ফ্রি-কিক) থেকে গোল করার চমৎকার দক্ষতা এবং দলের দীর্ঘদেহী খেলোয়াড়দের হেডার নেওয়ার সক্ষমতা। দুর্বলতা: হাই-প্রেসিং দলের বিপক্ষে রক্ষণভাগে মাঝেমধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং বল হারানোর প্রবণতা।

বিশ্বকাপ ইতিহাস

নিউজিল্যান্ড এর আগে মাত্র দুবার (১৯৮২ ও ২০১০) বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। তবে ২০১০ সালের বিশ্বকাপে তারা একমাত্র দল হিসেবে কোনো ম্যাচ না হেরে (অপরাজিত) গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল।

স্মরণীয় মুহূর্ত

২০১০ সালের ফিফা বিশ্বকাপে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছিল এবং অপরাজিত থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করে।

সংস্কৃতি ও সমর্থক

মাঠের বাইরে নিউজিল্যান্ডের রাগবি কালচার ফুটবলকেও প্রভাবিত করে। সমর্থকরা সাধারণত সাদা জার্সিতে স্টেডিয়াম মাতিয়ে রাখেন এবং দলের জয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন।

মজার তথ্য

‘অল হোয়াইটস’ ডাকনামটি মূলত তাদের ঐতিহ্যবাহী পুরোপুরি সাদা রঙের জার্সি থেকে এসেছে, যা দেশটির বিখ্যাত রাগবি দল ‘অল ব্ল্যাকস’ এর নামের সঙ্গে মিল রেখে রাখা হয়েছে।
সম্ভাব্য ফরমেশন: ৪-৩-৩ ফরমেশনে আক্রমণাত্মক রূপরেখা।

গ্রুপ বিশ্লেষণ

নিউজিল্যান্ড ২০২৬ বিশ্বকাপে ‘গ্রুপ জি’-তে শক্তিশালী বেলজিয়াম, মিসর ও ইরানের বিপক্ষে খেলবে। গ্রুপ পর্বের বাধা টপকানো বেশ কঠিন হলেও, তারা অন্যতম চমক জাগানো দল হিসেবে লড়াই করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

ভবিষ্যদ্বাণী

কাগজে-কলমে বেলজিয়াম ও মিসর ফেভারিট হলেও, নিউজিল্যান্ড তাদের ফিজিক্যাল ফুটবল এবং ক্রিস উডের ফিনিশিংয়ের ওপর ভর করে যেকোনো দলকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে সক্ষম।

উক্তি

‘জার্সিটি আরও ভালো জায়গায় রাখ’।