আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাবসান চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তিনটি সৌদি পতাকাবাহী সুপারট্যাংকার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।
জাহাজগুলোতে মোট ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবহন করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বন্ধ হয়ে পড়েছিল জ্বালানি পরিবহন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শেষ হওয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত ও পেতে রাখা মাইন অপসারণ শেষ হওয়া সাপেক্ষে তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
যদিও এখনো আশঙ্কা জিইয়ে রেখেছে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা। বৃহস্পতিবার সকালেও লেবাননে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এ হামলা বন্ধে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি থাকলেও এতে ইসরায়েলকে কতটা বাধ্য করতে পারবেন তিনি, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
বৈশ্বিক শিপিং কোম্পানিগুলো বলছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল আগের অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে। এ জন্য আগে রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও পেতে রাখা মাইন অপসারণ করতে হবে। তবুও তাৎক্ষণিকভাবে কিছু প্রভাব দেখা গেছে। যেসব জাহাজ আগে নিজেদের অবস্থান গোপন রাখতে ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখত, তারা এখন প্রণালী অতিক্রমের জন্য প্রস্তুত। জাহাজগুলো এখন নিজেদের অবস্থান সম্প্রচারও শুরু করেছে।
হরমুজ দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল শুরুর খবর এরই মধ্যে পণ্যগুলোর বাজারে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের (ব্রেন্টি ক্রুড) দাম এরই মধ্যে ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা সংঘাত শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, যুদ্ধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য ৬০ দিনের আলোচনা সময় শুরু হয়েছে। তবে ইসরায়েলকে এ আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলছে, যেকোনো শান্তিচুক্তিতে লেবাননকেও সঙ্গে রাখতে হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকেও ‘লেবানন যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্ত’ এবং দেশটির ‘ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব’ নিশ্চিতের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা রয়েছে। বিষয়টিকে ইরানের জন্য একটি বড় ধরনের ছাড় হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
—জা.অর্থনীতি/আইবিএম
