জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।
সোমবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৩ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৭ টাকা।
এর আগে গত ১৩ জুন সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় প্রতি ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ায় দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের মূল্য নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৭৫ দফা স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ বার দাম বেড়েছে এবং ৩৬ বার কমেছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল, আর ২৯ বার কমানো হয়েছিল।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বাড়িয়েছে বাজুস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট রুপার দাম ২৩৩ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২১ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরির দাম ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৪৬ দফা রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ বার দাম বেড়েছে এবং ২২ বার কমেছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ বার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং তিনবার কমেছিল।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রভাবে দেশের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
—জা. অর্থনীতি/এআইই