আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ওমান উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বার্তা পাঠানোর একদিন পরই ভারতকে কড়া জবাব দিয়েছে ওয়াশিংটন।
শনিবার (১৩ জুন) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে জানিয়েছেন, ইরানি তেলের অবৈধ পরিবহন এবং হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, রুবিও জোর দিয়ে বলেছেন যে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে মার্কিন বাহিনী কাজ করছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে অবশ্যই তাদের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
এর আগে শুক্রবার ওমান উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায় ভারত। জয়শঙ্কর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছিলেন, বাণিজ্যিক জাহাজে এমন প্রাণঘাতী হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে এর জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ইরানি তেলের অবৈধ পরিবহন ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার বিষয়টি কঠোরভাবে দেখা হবে।
গত ৮ জুন থেকে ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিক বহনকারী অন্তত তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলার জন্য সেখানে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
এর মধ্যে ‘মাউন্ট সেটবেলো’ নামের জাহাজটিতে মোট ২৮ জন নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২৪ জন ভারতীয়, দুজন পাকিস্তানি, একজন রুশ এবং একজন ইউক্রেনীয় নাগরিক ছিলেন। হামলার পর ২১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন।
অন্যদিকে ‘এমটি মারিভেক্স’ নামের আরেকটি জাহাজে থাকা ২৪ ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে ভারতে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিরোধী দলগুলো সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলে। গত বুধবার ভারতে নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিক জেসনকে তলব করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তখন তারা জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ ও নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে হবে।
এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালির কাছে ভারতীয় নাবিক পরিচালিত আরেকটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। ‘মাউন্ট জলবীর’ নামের ওই জাহাজ থেকে অন্তত ২০ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, জাহাজটি অবৈধভাবে ইরান থেকে তেল পরিবহন করছিল এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেছিল। সে কারণেই জাহাজটির ইঞ্জিনরুম লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয় বলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে শুক্রবার আবারও মার্কিন কূটনীতিককে তলব করে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর কাছেও বার্তা পাঠান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
—জা. অর্থনীতি/এআইই