জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় স্বাস্থ্যখাতের জনবল সংকট দূর করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে থাকা শূন্যপদ পূরণের অংশ হিসেবে দ্রুত ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে।
জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতের দুর্বল পরিকল্পনা ও টিকাদান কর্মসূচির যথাযথ বাস্তবায়নের অভাবের কারণে দেশে হাম রোগের বিস্তার ঘটেছে, যা শিশু মৃত্যুর মতো উদ্বেগজনক পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই প্রায় সব শিশুর কাছে হাম-রুবেলা টিকা পৌঁছে দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করছে।
তিনি আরও জানান, দেশের চিকিৎসা শিক্ষাকে সময়োপযোগী ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নতুন এমবিবিএস কারিকুলাম চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে ইন্টিগ্রেটেড মডিউলার শিক্ষা পদ্ধতি, আধুনিক ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর চিকিৎসা জ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে দক্ষ ও ভবিষ্যৎ উপযোগী চিকিৎসক তৈরির ভিত্তি গড়ে তোলা হবে।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি খাতের উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ খাতে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি নার্সিং বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষার সুযোগও বাড়ানো হবে।
সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন এবং জনগণের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে নতুন করে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই নারী হবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, ফলে সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে দেশীয় ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।
—জা. অর্থনীতি/এআইই