৩ দেশ, ৪৮ দল, এক স্বপ্ন; বিশ্বকাপ!
ছবি: এআই জেনারেটড

এক.

পুরো বিশ্বের হৃদস্পন্দন ধীরে ধীরে এক সুরে বাঁধা পড়ছে। সেই সুর, কাব্য, গদ্য ও ছন্দের সবটুকু-জুড়েই শুধু একটা বিষয়— ফুটবল; বিশ্বকাপ ফুটবল! চার বছর প্রতীক্ষার অপেক্ষার সময় শেষ হয়ে এলো বলে। গোটা বিশ্বের চোখ এখন ক্যালেন্ডারের ১১ জুনে। সেদিনই এবারের বিশ্বকাপ শুরুর ঘণ্টাধ্বনি। কিকঅফ!

চায়ের দোকান থেকে রকের আড্ডা, স্টেডিয়ামের গ্যালারি ছাপিয়ে পাঠশালার কোণ, চাকচিক্যের শহরে ঝলমলো আলোর ঝর্ণার আলোচনা থেকে ছায়াঢাকা নিবিড় মেঠোপথের ধারে আইল ঘেরা ফসলের মাঠ, সোমবারের দুপুরের হাট, কিংবা সাঁঝবেলা উঠানো ঝালমুড়ির আড্ডা আনন্দ, পত্রিকার পাতা, ফেসবুকে ঝগড়া, টিভির টকশো— এই সময়ে সর্বত্রই আলাপ-আলোচনা, উত্তাপ-সমালোচনার দূর বিস্তৃতজুড়ে শুধু ফুটবল আর ফুটবল!

ঢাকার অলিগলি থেকে শুরু করে সিলেটের চা বাগান, চট্টগ্রামের সমুদ্রতট, রাজশাহীর পদ্মার ঘাট— সর্বত্র একই জ্বর। রাস্তার মোড়, মহল্লার দোকানপাট, বাসাবাড়ির ছাদে অনেক দেশের পতাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অংশজুড়ে উড়বে ব্রাজিলের সবুজ-হলুদ আর আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা পতাকা। চায়ের কেটলি ফুটছে আর ফুটছে আলোচনার উত্তাপও। ছেলে-বুড়ো, নারী-পুরুষ— ফুটবলের এই উৎসব মঞ্চ সবাইকে এক কাতারে এনে দাঁড় করায়।

বিশ্বকাপ ফুটবল এমনই এক সম্মিলিত শক্তির উৎস!

দুই.

বিশ্বকাপ ফুটবল এখন বিস্তৃত। আরও বেশি উপভোগ্য। শুরুর দিন থেকে ফাইনাল পর্যন্ত চিরাচরিত সেই প্রশ্নের খোঁজ— কে হবে ফুটবলের নতুন রাজা? এবার কোন দল লিখবে নতুন ইতিহাস? অনেক নতুনত্ব নিয়ে শুরু হচ্ছে এবারের বিশ্বকাপের আনন্দযজ্ঞ। সবচেয়ে বেশি দল। বিস্তৃত ভেন্যু। নতুন কিছু নিয়ম। বিশ্বের ২১২টি ফুটবল খেলুড়ে দেশের মধ্যে ৪৮টি দেশ এবার বিশ্বকাপে খেলছে। এই প্রথমবারের মতো তিন দেশ হয়েছে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক। আমেরিকা-মেক্সিকো ও কানাডা; তিন প্রতিবেশী বিশ্বকাপ আয়োজনের মর্যাদা ভাগাভাগি করছে।

পৃথিবীর মোট ফুটবল খেলা দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ একই মঞ্চে মুখোমুখি হবে— এই দৃশ্য ক্রীড়া ইতিহাসে অভূতপূর্ব। যুক্তরাষ্ট্রের ১১ শহর, মেক্সিকোর তিনটি এবং কানাডার তিনটি শহর মিলিয়ে মোট ১৭টি ভেন্যুতে ছড়িয়ে পড়বে এই বিশ্বকাপের মহা উৎসব। নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়াম থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়াম, মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা থেকে টরন্টোর বিএমও ফিল্ড— এই স্টেডিয়ামগুলো এবার সাক্ষী হবে ইতিহাসের। প্রতিটি মাঠ হয়ে উঠবে ফুটবল আনন্দ উৎসবের ফোয়ারা।

উদ্বোধনী ও ফাইনালসহ ১০৪ ম্যাচের পসরা সাজিয়ে বিশ্বকাপ পুরো বিশ্বকে ডেকে বলছে, আস এবং লুটে নাও ফুটবলের আনন্দ। স্বপ্ন সাজাও, জিতে নাও চ্যালেঞ্জ। বিশ্বকাপ মানেই নতুন গল্প, নতুন স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন ও গল্প সাজিয়ে এবার বিশ্বকাপে যে দলগুলো প্রথমবারের মতো মাঠে নামছে তাদের নামগুলো জানি; উজবেকিস্তান, জর্ডান, ওমান, বাহরাইন, কুরাসাও, কেপভার্দে— বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া এই দেশগুলোর কাছে এই মহাযজ্ঞে অংশ নেওয়াটাই একটি মহাকাব্যিক অর্জন। এই দেশগুলোর খেলোয়াড়রা যখন বিশ্বকাপের জার্সি গায়ে মাঠে নামে তখন তাদের চোখের কোণে যে জল জমে, গোলের উচ্ছ্বাসে ফুটবলাররা যখন দুই হাত প্রসারিত করে পাগলপারা উল্লাসে মেতে উঠেন, সেই বিস্ফোরিত আনন্দের অন্য নাম ফুটবলীয় আবেগ।

সত্যিকার অর্থেই বিশ্বকাপ ফুটবল গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ!

তিন.

বাঁশি শুরুর পর ৯০ মিনিটের, কখনওবা সেটা বেড়ে ১২০ মিনিটের— উথাল পাথাল অনিশ্চিত যাত্রাই ফুটবলের সৌন্দর্য। শুরুতে হোঁচট খেয়ে মন খারাপ করে থাকা দল আবার শেষদিন এসে ট্রফি হাতে উৎসব করে এমন রোমাঞ্চিত গল্পও আছে বিশ্বকাপে ইতিহাসে। একটু মনে করিয়ে দেই। চার বছর আগের বিশ্বকাপে প্রায় হিসেবের বাইরে থাকা সৌদি আরবের কাছে আর্জেন্টিনা তাদের উদ্বোধনী ম্যাচে হেরে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আর্জেন্টিনাই বিশ্বকাপ জিতে উল্লাসে ভাসে। মেসির মুঠোয় থাকা বিশ্বকাপ পায় পূর্ণতা! বিশ্বকাপের গল্প আনন্দে প্রায় অজানা অখ্যাত দল লিখে রূপকথা। আবার হটফেভারিট হয়ে থাকা বড় দল ফিরে রিক্ত-শূন্য হাতে।

এ যে নেহাৎ শুধু খেলা নয়, বৃহৎ অর্থে ফুটবল হলো প্রায় অনিয়ন্ত্রিত আবেগের মিলনমেলা। খেলা শুরুর পর থেকে অগণিত মানুষের আশা-উত্তেজনা-স্বপ্নের বুনন। কি নেই এখানে? আছে অপেক্ষা, লড়াই, হতাশা, বিস্ময়, উল্লাস, স্বপ্ন আর উন্মাদনা। নব্বই বছর আয়ু নিয়ে বাঁচা মানুষের জীবন নাটকের পুরোটাই যেন মঞ্চস্থ হয় নব্বই মিনিটের ছন্দময় গদ্যে! বৃষ্টিভেজা মাঠে, কাদামাখা পায়ে, কিংবা আলো ঝলমলে স্টেডিয়ামে, ফুটবল একই রকম আবেগে মানুষকে এক সুতোয় গেঁথে রাখে। ফুটবল সবর্ত্রই একই রকম আনন্দের সমাহার নিয়ে হাজির হয়। মাঠে খেলছে ২২ জন খেলোয়াড় আর গ্যালারিতে লাখো সমর্থক সমানতালে চিৎকার, স্লোগান, গানে আবেগের বিস্ফোরণে বিস্ফোরিত।

ভাষা, স্থান, মানচিত্র, সংস্কৃতির ভিন্নতা ভুলে অনেক অনেক দূরের, অন্য গোলার্ধের ফুটবল দেশকেও মানুষ নিজ হৃদয়ের স্পন্দন বানিয়ে ফেলে। বিশ্বকাপ ফুটবলের জাদুকরী প্রভাবটাই এমন! এই ফুটবলেই জন্ম নেয় বন্ধুত্ব, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ঐক্য, সুখস্মৃতি এমনকি ঈর্ষা এবং আজন্ম শত্রুতার বিষাক্ত সম্পর্ক।

-উদাহরণ চান?

ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের সঙ্গে ইংল্যান্ডের সম্পর্কের রেখাচিত্র আঁকুন, আপনি পরিষ্কার উত্তরটা পেয়ে যাবেন।

বিশ্বকাপ যে সার্বিক অর্থে মানব জীবনের প্রতিচ্ছবি!

চার.

তিন দেশে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ যে সময়ে শুরু হবে তাতেই বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের ঘুমের সময়টা বদলে যাচ্ছে। নির্ঘুম রাতের ক্লান্তি কেটে যাবে ফুটবলের ফুর্তিতে। বরাবরের মতো এবারও বাংলাদেশ খেলছে না বিশ্বকাপে। তবে বিশ্বকাপে না খেলেও এর জ্বরে আক্রান্ত হয় বেশ ভালোভাবেই। প্রতি চার বছর পরপর বিশ্বকাপের সময় পুরো দেশের চালচিত্র ও আলোচনা-সমালোচনার বিষয়বস্তু বদলে গিয়ে আটকে থাকে ফুটবলের গোরোয়। ছাদ, বারান্দা রঙ-বেরঙের পতাকায় ছেয়ে যায়। অনেকে নিজের গোটা বাড়িও প্রিয় ফুটবল দেশের পতাকার রঙে রাঙিয়ে নেন। গাড়ির বনেটেও তাই।

রিকশাচালক তার পুরো রিকশায় আকাশি-সাদা রঙ তুলিতে এঁকেছেন প্রিয় আর্জেন্টিনার পতাকার রঙ। মহল্লা-রক-হলরুমের চত্বর, ছাদ কর্নার; চারধারে রঙ আনন্দে প্রিয় দলের প্রতি সমর্থনের ছোঁয়া। চলবে তর্ক-বিতর্ক। যুক্তি-কুযুক্তি। ক্ষেত্র বিশেষে সেই হল্লা আবার হাতাহাতিতেও গড়িয়েছে, এমন বাজে নজিরও দেখেছে বাংলাদেশ বিশ্বকাপের মৌসুমে।

১১ জুনে শুরু আর ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালের রাত পর্যন্ত বিশ্বকাপ রোমাঞ্চ, উত্থান-পতন, হাসি-কান্নার গল্পগাথা। বিশ্বকাপ কখনও কারও জন্য রূপকথা, কখনও ট্র্যাজেডি। ১৯৫০ সালে উরুগুয়ে যখন ব্রাজিলের মারাকানায় স্বপ্নভঙ্গ করেছিল সেই কান্নার ক্ষত আজও ব্রাজিলিয়ানদের বুকে। ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার ছয়জনকে ডজ দিয়ে একক কৃতিত্বের বিখ্যাত সেই গোল, ফুটবল ইতিহাসে বিস্ময় আজও। ১৯৯৪ সালে রবার্তো ব্যাজিওর সেই টাইব্রেকার শটস মিস ইতালির কান্না, ম্যারাডোনার দুঃখী চেহারা কিংবা ব্রাজিলের উল্লাস একই ফ্রেমে ধরা।

ট্রফি হাতে একদল উল্লাসে মাতোয়ারা ঠিক তখনই খানিক দূরে মাঠের পাশে মাটিতে লুটিয়ে আরেক দলের কান্নায় ভেঙে পড়ার প্রতিচ্ছবি আমাদের সেই কঠিন সত্যটাই জানিয়ে দেয়, হাসি-কান্না নিয়েই মানবজীবন। ফুটবল এবং বিশ্বকাপ এভাবেই মানবিক আবেগকে চিরন্তন করে তোলে।

ফুটবল ঠিক যেন আনন্দ-বেদনার কাব্য!

পাঁচ.

বিশ্বকাপ শুরুর আগে কান পাতলেই একটা শব্দ সবচেয়ে বেশি শোনা যায়— ফেভারিট! হট ফেভারিট! প্রাক বিশ্বকাপের আগে এই ফেভারিট-হট ফেভারিটের প্রশ্নের উত্তর খোঁজা মানেই বিতর্ককে সঙ্গে নিয়ে চলা। মূলত ইতিহাস, পরিসংখ্যান, দলীয় শক্তি, সাম্প্রতিক ফর্ম, কৌশলে এগিয়ে থাকার নৈপুণ্য, বড় আসরে জেতার জেদ— এসব অনুষঙ্গকে যোগ-বিয়োগ করেই ফেভারিটের খোঁজ চলে। তবে সবসময় যে ইতিহাস ও পরিসংখ্যানের সূত্র অনুযায়ী ফুটবলের হার-জিতের অঙ্ক মিলে যায়, অমন কিছুও নয় কিন্তু। চলুন বাস্তবতাকে সঙ্গে নিয়ে আবেগের হাত ধরে এবারের বিশ্বকাপের ফেভারিটদের নিয়ে খানিকটা ছক কাটাকাটি খেলি।

আর্জেন্টিনা আসছে গত বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। মেসির নেতৃত্বে কাতারে যে ট্রফি জয় হয়েছিল সেটা ছিল কোটি ভক্তের বহু বছরের স্বপ্নপূরণ। এবার আর্জেন্টিনা চাইবে ব্যাক-টু-ব্যাক শিরোপা। যে রের্কড ব্রাজিল করেছিল ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে। সেই নজির এবার আলবিসেলেস্তে অনুসরণ করতে চাইবে। মেসি পারবেন কি ইতিহাসের সেই একচেটিয়া অধ্যায়ের অংশ হতে? এই প্রশ্নের উত্তরই এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় রোমাঞ্চ। ম্যারাডোনা একবার বিশ্বকাপ জিতেছিলেন, মেসি কি তাকে এই অর্জনে ছাড়িয়ে যেতে পারবেন?

ব্রাজিল ২০০২ সালের পর একবারও বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। ২৪ বছরের সেই অপেক্ষা এবার ঘুচবে কি? পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবারের ষষ্ঠ শিরোপার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে মনোযোগ দিয়ে। সাম্বার তালে ব্লকবাস্টার ব্রাজিলের খেলা সবসময়ই চোখের আনন্দ। তবে শুধু সুন্দর ফুটবলে বিশ্বকাপ জেতা যায় না, ‘জোগো বোনিতার’ চর্চায় দীক্ষিত ব্রাজিল এই কঠিন সত্য উপলদ্ধি করছে ২৪ বছর ধরে।

ফ্রান্স এবারও মুখিয়ে আছে। কাতারের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের সেই ক্ষতের দাগ এখনও শুকায়নি। কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স এবার প্রমাণের ময়দানে নামবে— প্রমাণ করতে চাইবে যে ২০১৮ সালের বিশ্বজয়ী ফ্রান্স এখনও পৃথিবীর সেরা। প্রতিভার যে বিস্ফোরণ ফরাসি দলে, তাতে তাদের এবারও হালকা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

স্পেনের কথা না বললে অসম্পূর্ণ থেকে যায় বিশ্বকাপের আলোচনা। ২০১০ সালের পর স্পেন আর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। কিন্তু এবার তাদের হাতে এক নতুন অস্ত্র— লামিনে ইয়ামাল। নিজের প্রথম বিশ্বকাপকে নিজের মতো করে রাঙানোর অপেক্ষায় আছেন বার্সোলোনার এই চ্যাম্পিয়ন। স্পেনের টিকি-টাকার শিল্পসৌকর্য আর ইয়ামালের বিদ্যুৎগতির সমন্বয়ে লা রোখা এবার বিশ্বকাপের সবচেয়ে ভয়ংকর দলগুলোর একটি। ২০১০ বিশ্বকাপ জয়ের সেই সুখস্মৃতি ২০২৬-এ আরেকবার ফিরিয়ে আনতে পারবে স্পেন?

জার্মানি ফুটবল খেলে যান্ত্রিক ভঙ্গিতে। পুরো কম্পিউটার গেম! রোবোটিক। তাদের শক্তিকে কখনও খাটো করার সুযোগ নেই। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি যে কোনো পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রেখে খেলার ক্ষমতা রাখে— এই গুণটাই বিশ্বকাপের মতো লম্বা টুর্নামেন্টে তাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। ফুটবল তাদের কাছে আবেগের নয়, বরং নিখুঁত কারিগরির ছক। গতি-পরিকল্পনা, কৌশল এবং মাঠে সেটা অনুদিত করার অনন্য দল জার্মানি। নীরবে-নিভৃতে সাফল্যের ছক সাজিয়ে পৌঁছে যায় শ্রেষ্ঠত্বের আসনে।

ইংল্যান্ড কি তাদের ৬০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে পারবে? ১৯৬৬ সালের পর ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের ট্রফি দেখেনি। প্রতিটি বিশ্বকাপে তারা শুরু করে স্বপ্ন নিয়ে, শেষ করে হতাশা নিয়ে। তবু ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাদের প্রতিভার অভাব নেই— অভাব আছে শুধু সেই ঠান্ডা মাথার নির্ভরযোগ্যতার।

নেদারল্যান্ডস বরাবরের মতো এবারও বিশ্বকাপের ‘ডেঞ্জারাস আউটসাইডার’।

ডাচ দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো অভিজ্ঞতার মিশ্রণে তৈরি ভারসাম্য। ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলা বেশ কয়েকজন বিশ্বমানের খেলোয়াড় হল্যান্ডকে আরেকবার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। দলটি অবশ্য বরাবরই স্বপ্ন দেখে। কিন্তু শেষ ধাপটা টপকাতে ব্যর্থ হয়। তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেও প্রতিপক্ষের সুখ দেখে কান্না সঙ্গী করেই বাড়ি ফিরেছে ডাচরা। নেদারল্যান্ডসের বিশ্বকাপ ইতিহাস শেষ হয়েছে নিষ্ঠুরতার গল্প নিয়েই। বিশ্বকাপে কি এবার হাসবে ডাচরা? ফেভারিটদের এই তালিকার শেষ সারিতে পর্তুগালের নামও এক কোণায় থাকছে। পেছনের পাঁচ বিশ্বকাপে খেলে এখন পর্যন্ত ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর কাছে বিশ্বকাপ মানেই বেদনার গল্পগাথা!

এবারের বিশ্বকাপ কার আনন্দের সারথি হবে? অথবা কার দুঃখের রাত হবে? মেসি কি ইতিহাসের বিরলতম কীর্তি গড়বেন? এমবাপ্পে কি ফ্রান্সকে আবার শীর্ষে নিতে পারবেন? ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান কি এবার? স্পেনের তরুণ দল কি নতুন ইতিহাস লিখবে? প্রশ্ন অনেক— সব উত্তর মিলবে মাঠে। বিশ্বকাপের ৪৮ দলের বেশির ভাগ খেলছে স্রেফ ‘অংশগ্রহণকারী’ দল হিসেবে। ১৯ জুলাইয়ে বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে নিয়ে যাকে আপনি উল্লাস করতে দেখবেন তিনি উপরে বর্ণিত হট ফেভারিট কোনো এক দলের অধিনায়কই হবেন, অন্য কেউ নন।

-কি বুঝলেন?

বিশ্বকাপ তাহলে শুধু ‘বড়রাই’ জেতে!

লেখক: এম এম কায়সার, ক্রীড়া সম্পাদক, দৈনিক আমার দেশ