যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসননীতি আবারও আদালতের বাধার মুখে পড়েছে। এবার এইচ-১বি ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ায় মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরোপ করা অতিরিক্ত ফি'কে বেআইনি ঘোষণা করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত।
সোমবার (৮ জুন) দেওয়া ৪২ পৃষ্ঠার এক রায়ে আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ওই শর্ত বাতিল করে দেন। আদালতের মতে, এইচ-১বি ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সিদ্ধান্ত আইনসঙ্গত ছিল না।
এইচ-১বি হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ-অভিবাসী ভিসা কর্মসূচি, যার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ পান। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন নিয়ম চালু করে জানায়, বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য এইচ-১বি ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত এক লাখ ডলার জমা দিতে হবে।
এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালতে মামলা করা হয়। মামলার রায়ে বিচারক লিও সোরোকিন বলেন, এই ধরনের আর্থিক শর্ত আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। তিনি উল্লেখ করেন, অভিবাসন আইনে এ ধরনের পরিবর্তন বা নতুন কর আরোপের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের হাতে রয়েছে।
রায়ে বিচারক বলেন, ‘এইচ-১বি ভিসার আবেদনের ওপর কর বা অতিরিক্ত অর্থ আরোপের কোনো ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়নি। এমন কোনো দায়িত্বও তাঁর ওপর ন্যস্ত করা হয়নি।’
আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত অর্থকে কার্যত ‘বেআইনি কর’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিচারক আরও বলেন, এ বিষয়ে কংগ্রেসের কোনো অনুমোদনও ছিল না।
এইচ-১বি ভিসার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীরা সাধারণত একই পদে কর্মরত মার্কিন নাগরিকদের সমপরিমাণ বেতন পান। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপে দেশীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এইচ-১বি ভিসার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপও সেই নীতিরই অংশ ছিল। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন শিল্পে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল অনেক প্রতিষ্ঠান। নতুন শর্ত কার্যকর হলে এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ ব্যয় অনেক বেড়ে যেত বলে মনে করা হচ্ছিল।
—জা. অর্থনীতি/এআইই