বিশ্ববাজারে আরও দুর্বল হলো ডলার
ছবি সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার খবরে আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের মান আরও দুর্বল হয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে তেলের দামও।

বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপদ বিনিয়োগমাধ্যম হিসেবে ডলারের চাহিদা কমে যাওয়ায় চলতি সপ্তাহজুড়ে মার্কিন মুদ্রার ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

বিশ্বের প্রধান ছয়টি মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মান পরিমাপকারী ডলার ইনডেক্স শুক্রবার (২৯ মে) ৯৮ দশমিক ৯৯৭ পয়েন্টে অবস্থান করে, যা প্রায় অপরিবর্তিত। এর আগের দিন সূচকটি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছিল। ফলে চলতি সপ্তাহে ডলার ইনডেক্স প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমার পথে রয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী চারটি সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হতে পারে। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে।

তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ জটিল ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলেও জানা গেছে।

এ খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলারের চাহিদাও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। যদিও সপ্তাহের শুরুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে বাজারে এখনো সতর্কতা বিরাজ করছে।

ইউবিএস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের বৈশ্বিক বাজার কৌশল বিভাগের প্রধান মাসিমিলিয়ানো কাস্তেল্লি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট যদি ধীরে ধীরে প্রশমিত হয়, তাহলে মার্কিন ডলারের দুর্বলতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সংঘাত চলাকালে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদার কারণে ডলারের পতন সাময়িকভাবে থেমে ছিল। তবে এখন অনেক বিনিয়োগকারী ডলারভিত্তিক সম্পদ থেকে সরে এসে বিনিয়োগ বহুমুখীকরণের দিকে ঝুঁকছেন। এর প্রভাব মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের বাজারেও পড়ছে।

এদিকে ডলারের দুর্বলতার সুযোগে শক্তিশালী হয়েছে জাপানি ইয়েন। বর্তমানে প্রতি ডলারের বিপরীতে ১৫৯ দশমিক ২৭ ইয়েন লেনদেন হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতিতে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। 

—জা. অর্থনীতি/এনজে