মেয়েকে বুকে জড়িয়ে থাকা লেভিটকে ইরানের বার্তা, ‘ওই শিশুদের মায়েদের কথাও ভাবুন’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটকে কন্যাসন্তানের জন্মের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে ইরান। তবে একই সঙ্গে গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে হামলার ঘটনাও সামনে এনেছে তেহরান। ওই হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে অনেক শিশু ছিল।

গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে নিজের দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের খবর জানান লেভিট। তিনি বলেন, ১ মে জন্ম নেওয়া মেয়ের নাম রাখা হয়েছে ভিভিয়ানা, ডাকনাম ‘ভিভি’।

লেভিট লেখেন, “ভিভিয়ানা আমাদের পরিবারে এসেছে, আর আমাদের হৃদয় ভালোবাসায় ভরে গেছে। সে পুরোপুরি সুস্থ। তার বড় ভাইও নতুন বোনকে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেছে।”

২৮ বছর বয়সী লেভিট যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি। লেভিটের ওই পোস্টের জবাবে আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এক্সে একটি বার্তা দেয়। সেখানে অভিনন্দনের পাশাপাশি মিনাব হামলার প্রসঙ্গ তুলে সমালোচনা করা হয়।

ইরানি দূতাবাস লিখেছে, “অভিনন্দন। শিশুরা নিষ্পাপ ও ভালোবাসার। মিনাবের স্কুলে আপনার বস যেসব ১৬৮ শিশুকে হত্যা করেছেন এবং আপনি যার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন, তারাও শিশু ছিল। যখন আপনি আপনার শিশুকে চুমু দেবেন, তখন ওই শিশুদের মায়েদের কথা ভাববেন।”

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ৭৩ জন ছেলে ও ৪৭ জন মেয়ে নিহত হয়।

সেদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। পরে পাল্টা জবাবে তেহরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।

আইআরআইবির টেলিগ্রাম পোস্টে আরও বলা হয়, ওই হামলায় ২৬ জন শিক্ষক, সাতজন অভিভাবক, একটি স্কুলবাসের চালক এবং পাশের ক্লিনিকের এক ফার্মেসি টেকনিশিয়ান নিহত হন।

এর আগে মার্চ মাসে লেভিট বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।

তিনি বলেন, “যদিও যুদ্ধ বিভাগ এ ঘটনা তদন্ত করছে, ইরানি শাসনব্যবস্থাই বেসামরিক মানুষ ও শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানায়, যুক্তরাষ্ট্র নয়।”

এদিকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক সামরিক তদন্তে দেখা গেছে, লক্ষ্য নির্ধারণে ভুলের কারণে একটি মার্কিন টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মিনাবের ওই বিদ্যালয়ে আঘাত হানে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে দাবি করেছিলেন, মিনাব হামলার জন্য ইরান নিজেই দায়ী হতে পারে। যদিও ইরানের কাছে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নেই বলে মনে করা হয়।

গত ৭ মার্চ ট্রাম্প বলেন, তার “মতে” মিনাব হামলার জন্য ইরান দায়ী। তবে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

পরে স্কুলসংলগ্ন সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন টমাহক আঘাত হানার একটি ভিডিও সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, “আমি এটি দেখিনি।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের কাছেও টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।

১১ মার্চ প্রাথমিক সামরিক তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়টি উঠে এসেছে, এমন প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।”

 —জা. অর্থনীতি/এআইই