বিশ্ববাজারে ফের উর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দাম

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে। দিনের লেনদেনের শুরুতে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ১ শতাংশের বেশি কমলেও দিনের শেষ ভাগে তা দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিরসনে নতুন কূটনৈতিক অগ্রগতির খবরের প্রভাবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বর্ণ কেনার আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি নতুন সমঝোতা প্রস্তাব বিনিময়ের সংবাদটি বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪,৬৩৬.৭২ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অথচ দিনের শুরুর দিকে দাম ৪,৫৫৯.৪৮ ডলারে নেমে গিয়েছিল। একই সময়ে আগামী জুন মাসে সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার্সের দামও ০.৪ শতাংশ বেড়ে ৪,৬৪৯.৬০ ডলারে পৌঁছায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের কদর বেড়ে যাওয়ায় এই উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।

স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে মার্কিন ডলারের মান কমে যাওয়াও একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের সূচক প্রায় ০.৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে অন্যান্য মুদ্রার অধিকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে। কিটকো মেটালসের সিনিয়র বিশ্লেষক জিম উইকফ জানান, ইরান পুনরায় আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করার খবরটি বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা বদলে দিয়েছে। এটি ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার পাশাপাশি স্বর্ণের বাজারকে শক্তিশালী করেছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দাম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে। এদিন রুপার দাম ৩.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৭৬.২৬ ডলারে এবং প্লাটিনাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে ২,০০২ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। তবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম শুক্রবার কিছুটা কমলেও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে তা এখনও উর্ধ্বমুখী রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে জ্বালানি ও ধাতব পদার্থের মূল্যের এই অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা এখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকে গভীর নজর রাখছেন। যদি প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনা প্রকৃতপক্ষে সফল হয়, তবে বাজারের অস্থিরতা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে কোনো স্থায়ী সমাধান না আসা পর্যন্ত স্বর্ণ ও তেলের বাজারে এই পরিবর্তনশীল অবস্থা বজায় থাকার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বড় বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে তাঁদের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করছেন।

জেএ/অভি