আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে কোনো দলই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। শনিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ফলাফল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ায় পরবর্তী সরকার গঠন এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে প্রায় ৩ লাখ ‘বিশেষ ভোট’ বা স্পেশাল ভোট গণনার ওপর। ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল পার্টির নেতা ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লুক্সন জানিয়েছেন, তাদের পুনরায় সরকার গঠনের সুযোগ রয়েছে, তবে ব্যবধান এতই কম যে এখনই চূড়ান্ত ফল সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। রেডিও নিউজিল্যান্ডের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই বিপুল সংখ্যক বিশেষ ভোট গণনার পরেই নির্ধারণ হবে ক্ষমতার মূল সমীকরণ।
নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল পার্টি এবং প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেছে এবং কোনো দলই এককভাবে মোট ভোটের ৩০ শতাংশ স্পর্শ করতে পারেনি। মাত্র কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে লেবার পার্টি ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ অর্থাৎ ৭ লাখ ১০ হাজার ৩৩০টি ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে ন্যাশনাল পার্টি পেয়েছে ২৯ দশমিক ২ শতাংশ অর্থাৎ ৭ লাখ ৬ হাজার ৬৮০টি ভোট। তবে ভোটের শতাংশে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও প্রাপ্ত আসনের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে ন্যাশনাল পার্টি; দলটি মোট ৪২টি আসনে বিজয়ী হয়েছে এবং লেবার পার্টি পেয়েছে ৩৬টি আসন।
নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টের সাধারণ আসন সংখ্যা ১২০টি হলেও এবারের ফলাফলে ১১টি অতিরিক্ত ‘ওভারহ্যাং’ আসন যুক্ত হওয়ার আভাস মিলেছে, যার ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৬৬টি আসনে। প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লুক্সনের বর্তমান ক্ষমতাসীন জোটে ন্যাশনাল পার্টির সহযোগী হিসেবে রয়েছে ‘অ্যাক্ট নিউজিল্যান্ড’ ও ‘নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট’ পার্টি। প্রাথমিক গণনায় অ্যাক্ট নিউজিল্যান্ড ১৩টি এবং নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট ১২টি আসন নিশ্চিত করেছে। ফলে প্রাথমিক হিসাবে জোটবদ্ধভাবে এগিয়ে থাকলেও বিশেষ ভোটের হিসাব আসন সংখ্যার এই ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে।
নিউজিল্যান্ডের নির্বাচনী ব্যবস্থা অনুযায়ী ‘বিশেষ ভোট’ মূলত সেইসব ভোটারদের ভোট, যারা নির্দিষ্ট কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় অনুপস্থিত ছিলেন, অপ্রকাশিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ভোটার অথবা যারা শারীরিক বা অন্য কোনো কারণে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেননি। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এই ৩ লাখ বিশেষ ভোট যাচাই-বাছাই ও গণনার প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী ২৭ নভেম্বর নির্বাচনের চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।
জেএ/অভি