Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 01:06 pm

মৌলভীবাজার সীমান্তে ২০ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ করল বিজিবি

image

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: ঘন কুয়াশা আর শীতের রাতের নিস্তব্ধতাকে কাজে লাগিয়ে মৌলভীবাজারের জুড়ী ও বড়লেখা সীমান্ত দিয়ে প্রায় ২০ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা চালিয়েছিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ৫২ বিজিবির (বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন) সতর্ক পাহারা ও তাৎক্ষণিক দৃঢ় পদক্ষেপে সেই অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) গভীর রাতে মৌলভীবাজারের জুড়ী ও বড়লেখা সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি বনাঞ্চলসংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, রাতের গভীরতা এবং চারপাশের ঘন কুয়াশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে হঠাৎ করেই সীমান্তের ওপারে বিএসএফের আওতাধীন এলাকার সব লাইট নিভিয়ে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল, সম্পূর্ণ অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ওই ২০ জন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে ঠেলে দেওয়া। জুড়ী ও বড়লেখার দুর্গম পাহাড়ি ও বনাঞ্চলঘেরা সীমান্ত এলাকা হওয়ায় কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল; আর এই সুযোগটিই নিতে চেয়েছিল বিএসএফ। তবে আগে থেকেই সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার রাখায় বিজিবি দ্রুত বিষয়টি টের পায়।

৫২ বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান জানান, সীমান্তে আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত সুদৃঢ় ও সতর্ক রয়েছে। বিএসএফের এই পুশইনের অপচেষ্টা টের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিজিবির টহল দল কঠোর অবস্থান নেয়, ফলে তারা সফল হতে পারেনি। সীমান্ত দিয়ে যে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এদিকে সীমান্ত এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের আঁধারে প্রায়ই এ ধরনের পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানো হয়, যা সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করে। সীমান্ত সুরক্ষা আরও জোরদার করতে এবং রাতের বেলা অপরাধমূলক তৎপরতা রোধে সংশ্লিষ্ট এলাকায় টহল ও ফ্লাডলাইটের ব্যবস্থা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রাতের আঁধারে আলো নিভিয়ে এভাবে মানুষ ঠেলে দেওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন ও দুই দেশের বন্ধুসুলভ সম্পর্কের পরিপন্থী। এই ধরনের তৎপরতা সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। এ ঘটনার পর থেকে মৌলভীবাজারের ওই সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি