জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: শরীরের ভেতরে কী ঘটছে, বাইরে থেকে সব সময় তা বোঝা যায় না। হাড় ভাঙা, ফুসফুসের সমস্যা কিংবা শরীরের কোথাও লুকিয়ে থাকা কোনো অস্বাভাবিকতা—এসব শনাক্ত করতে চিকিৎসকদের বড় সহায়তা করে মেডিকেল ইমেজিং। আর এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে রেডিওগ্রাফি। তাই এই পেশা, প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অবদান তুলে ধরতেই পালিত হয় বিশ্ব রেডিওগ্রাফি দিবস।
প্রতি বছর ৮ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হয়। একই দিনে আন্তর্জাতিক রেডিওলজি দিবসও উদ্যাপিত হয়। দিনটি বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাস বদলে দেওয়া এক আবিষ্কার। ১৮৯৫ সালের ৮ নভেম্বর জার্মান পদার্থবিদ উইলহেল্ম কনরাড রন্টগেন এক্স-রে বা এক্স-রশ্মি আবিষ্কার করেন। পরীক্ষাগারে ক্যাথোড রশ্মি নিয়ে কাজ করার সময় তিনি অজানা এক ধরনের রশ্মির প্রভাব লক্ষ্য করেন। পরে সেই রশ্মির সাহায্যে মানুষের শরীরের ভেতরের অংশের ছবি তোলা সম্ভব হয়।
রন্টগেনের আবিষ্কারের পর চিকিৎসায় আসে বড় পরিবর্তন। আগে শরীরের ভেতরের হাড় বা আঘাতের অবস্থা জানতে অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার কিংবা অনুমানের ওপর নির্ভর করতে হতো। এক্স-রে সেই পরিস্থিতি বদলে দেয়। চিকিৎসকেরা শরীর না কেটেই হাড়ের গঠন, ভাঙন এবং কিছু রোগের লক্ষণ দেখতে পান। ১৯০১ সালে এই আবিষ্কারের জন্য রন্টগেন পদার্থবিজ্ঞানে প্রথম নোবেল পুরস্কার পান।
সময়ের সঙ্গে রেডিওগ্রাফি প্রযুক্তি আরও উন্নত হয়েছে। সাধারণ এক্স-রের পাশাপাশি সিটি স্ক্যান, ম্যামোগ্রাফি ও ফ্লুরোস্কোপির মতো পদ্ধতি রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আল্ট্রাসাউন্ড ও এমআরআইও আধুনিক মেডিকেল ইমেজিংয়ের অংশ, যদিও এগুলো এক্স-রের মতো আয়নকারী বিকিরণ ব্যবহার করে না।
তবে যন্ত্র থাকলেই নির্ভুল ছবি পাওয়া যায় না। রোগীর সঠিক অবস্থান, প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা, যন্ত্র পরিচালনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষ রেডিওগ্রাফার বা রেডিওলজিক্যাল টেকনোলজিস্টের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে রেডিওলজিস্ট চিকিৎসক ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে রোগ নির্ণয়ে সহায়তা করেন। অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়ায় চিকিৎসক ও প্রযুক্তিবিদদের সমন্বয় দরকার।
এক্স-রে ও সিটি স্ক্যানে আয়নকারী বিকিরণ ব্যবহৃত হয়। তাই অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা এড়িয়ে চলা, প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নেওয়া এবং প্রশিক্ষিত কর্মীর মাধ্যমে পরীক্ষা করানো জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করালে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়।
দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির হাড়ের অবস্থা বোঝা, বুকে সংক্রমণের চিহ্ন খোঁজা কিংবা স্তন ক্যানসারের লক্ষণ শনাক্তে ইমেজিং পরীক্ষা সহায়ক। তবে কোনো পরীক্ষাই একা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়; চিকিৎসক উপসর্গ ও তথ্য মিলিয়ে পদক্ষেপ ঠিক করেন।
রেডিওগ্রাফি দিবস তাই শুধু একটি প্রযুক্তির উদ্যাপন নয়। এটি রোগীর সঠিক ও নিরাপদ চিকিৎসায় পর্দার আড়ালে কাজ করা পেশাজীবীদের অবদান স্মরণ করার দিন। শরীরের অদেখা ভেতরকে দৃশ্যমান করে চিকিৎসাকে এগিয়ে নেওয়ার এই কাজেই রেডিওগ্রাফির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।
১৮৯৫ সালের ৮ নভেম্বর। জার্মানির এক গবেষণাগারে ঘটে যায় চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাস বদলে দেওয়া এক ঘটনা। বিজ্ঞানী উইলহেল্ম কনরাড রন্টগেন আবিষ্কার করেন এক্স-রে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো শরীর না কেটেই ভেতরের হাড় ও বিভিন্ন অংশের ছবি দেখা সম্ভব হয়। সেই আবিষ্কারের স্মরণে প্রতি বছর ৮ নভেম্বর পালিত হয় বিশ্ব রেডিওগ্রাফি দিবস। আধুনিক চিকিৎসায় এক্স-রে, সিটি স্ক্যান ও ম্যামোগ্রাফির মতো প্রযুক্তি রোগ শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আর এসব কাজে অবদান রাখছেন দক্ষ রেডিওগ্রাফি পেশাজীবীরা।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি