Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 01:06 pm

আইএমএফের ঋণ পেতে মানতে হবে ৪ শর্ত

image

জাতীয় অর্থনীতি অনলাইন: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ পেতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চারটি কঠিন শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ২০৩১ সালের মধ্যে সব ধরনের কর অব্যাহতি তুলে দেওয়া, সারা দেশে ভ্যাটের অভিন্ন হার চালু এবং রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পরিকল্পনা জমা দেওয়া। এ ছাড়া এনবিআরের নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কার্যক্রম আলাদা করার শর্তও দিয়েছে সংস্থাটি।

এনবিআরের চেয়ারম্যান সম্প্রতি সংস্থাটির তিনটি অনুবিভাগ—আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে আইএমএফের শর্তগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আইএমএফের আগের ঋণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত থাকলেও সেগুলো ঢিলেঢালাভাবে পরিপালন করেছিল এনবিআর। তবে এবার নতুন ঋণ পেতে সংস্থাটিকে কঠিন শর্ত মানতে হচ্ছে।

সম্প্রতি এনবিআরের চেয়ারম্যান ও তিন নীতি শাখার কর্মকর্তাদের সঙ্গে হওয়া বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কর অব্যাহতির পরিমাণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। মূলত দেশীয় শিল্প সুরক্ষা এবং অর্থনীতির গতি বাড়াতে সরকার বিভিন্ন খাতে এ ধরনের কর অব্যাহতি দিয়ে থাকে। তবে আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে সব ধরনের কর অব্যাহতি তুলে দিতে হবে।

এ ছাড়া সংস্থাটির আরেকটি শর্ত হলো, ভ্যাটের অভিন্ন হার চালু করা। বর্তমানে ক্ষেত্রবিশেষে ভ্যাটের হার ৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে নির্ধারিত রয়েছে। শিল্পের সুবিধা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় সরকার বিভিন্ন খাতে ভ্যাটের এ সুবিধা দিয়ে আসছে। তবে আইএমএফের ঋণ পেতে সারা দেশে একটি অভিন্ন হার কার্যকর করতে হবে। অর্থাৎ, ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হলে সব ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশই প্রযোজ্য হবে। একইভাবে ১০ শতাংশ বা সাড়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও সব ক্ষেত্রে একই হার কার্যকর করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৈঠকে উপস্থিত এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আইএমএফের বড় উদ্বেগের জায়গা হলো কর অব্যাহতি তুলে দেওয়া এবং ভ্যাটের একটি আদর্শ হার নির্ধারণ করা। এ ছাড়া রাজস্ব আহরণ বাড়াতে এনবিআরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও জানতে চেয়েছে সংস্থাটি। আরেকটি বড় বিষয় হলো এনবিআরকে পৃথক করা। সরকার এ বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করলেও এর বাস্তবায়ন দেখতে চায় আইএমএফ।

সূত্র আরও জানায়, এনবিআরের সঙ্গে বৈঠকে করের আওতা বাড়ানোর বিষয়েও জোর দিয়েছে আইএমএফের প্রতিনিধিদল। নতুন ঋণ প্রস্তাবের ক্ষেত্রেও বরাবরের মতো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে সংস্থাটি। আইএমএফ এ ক্ষেত্রে বাস্তব অগ্রগতি দেখতে চায়।

এ ছাড়া এনবিআরকে পৃথক করাও অন্যতম শর্ত। এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার এনবিআরকে দুই ভাগ করার অধ্যাদেশ জারি করেছে। আগামী সংসদ অধিবেশনে এ-সংক্রান্ত বিল উত্থাপনের কথা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এনবিআরকে দুটি পৃথক বিভাগে ভাগ করে রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব আলাদা করা হবে। এর একটি হবে রাজস্ব নীতি বিভাগ, অন্যটি বাস্তবায়ন বিভাগ। রাজস্ব নীতি বিভাগ নীতি প্রণয়নের কাজ করবে। আর বর্তমান এনবিআরকে বাস্তবায়ন বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব নীতি বিভাগে ১৬ সদস্যের একটি কাউন্সিল থাকবে। এই কাউন্সিলের মাধ্যমে ভবিষ্যতের রাজস্ব-সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ করা হবে। এতে ব্যবসায়ী ও আমলাদের পাশাপাশি অর্থনীতিবিদ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয় সূত্র। 

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ