Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 03:32 pm

যে নারী বিজ্ঞানের ইতিহাসে গড়েছিলেন অনন্য রেকর্ড (ভিডিও)

image

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: ১৮৬৭ সালের ৭ নভেম্বর। পোল্যান্ডের ওয়ারশ শহরে জন্ম নেন এক শিশু, যিনি একদিন বদলে দেবেন আধুনিক বিজ্ঞানের ইতিহাস। তার নাম মারিয়া স্ক্লোদোভস্কা, পৃথিবী তাকে চেনে মেরি কুরি নামে। বিজ্ঞানচর্চায় নারীদের জন্য সুযোগ যখন সীমিত, তখন তার অধ্যবসায় আর কৌতূহল তাকে পৌঁছে দেয় এমন উচ্চতায়, যেখানে আগে কোনো নারী পৌঁছাননি।

মেরির বাবা-মা দুজনই ছিলেন শিক্ষক। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার পরিবেশে বড় হন তিনি। কিন্তু সে সময় রুশ শাসিত পোল্যান্ডে নারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ ছিল না। তাই গোপনে পড়াশোনা চালিয়ে যান মেরি। বড় বোনের সঙ্গে সমঝোতা করে প্রথমে তিনি গভর্নেসের কাজ করেন, নিজের উপার্জন দিয়ে বোনের পড়াশোনায় সহায়তা করেন। পরে বোনও তাকে সাহায্য করেন। ১৮৯১ সালে ২৪ বছর বয়সে প্যারিসে যান মেরি। ভর্তি হন সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে, পড়েন পদার্থবিজ্ঞান ও গণিত।

 

প্যারিসে গবেষণার কাজে পরিচয় হয় বিজ্ঞানী পিয়েরে কুরির সঙ্গে। ১৮৯৫ সালে তাদের বিয়ে হয়। ১৮৯৬ সালে হেনরি বেকেরেল ইউরেনিয়াম থেকে নির্গত বিকিরণ নিয়ে গবেষণার নতুন পথ খুলে দেন। সেই সূত্র ধরে মেরি ও পিয়েরে শুরু করেন অনুসন্ধান। তারা দেখান, বিকিরণ কোনো রাসায়নিক যৌগের বিন্যাসের ওপর নির্ভর করে না; বরং পরমাণুর ভেতরের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে যুক্ত। এই ধারণা পরমাণু সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের পুরোনো চিন্তাকে বদলে দেয়।

গবেষণার এক পর্যায়ে তারা খুঁজে পান দুটি নতুন মৌল। ১৮৯৮ সালে প্রথমটির নাম দেন পোলোনিয়াম, মেরির জন্মভূমি পোল্যান্ডের নামে। একই বছর তারা ঘোষণা করেন রেডিয়ামের অস্তিত্ব। টন টন খনিজ প্রক্রিয়াজাত করে অতি সামান্য রেডিয়াম আলাদা করতে তাদের দীর্ঘ পরিশ্রম করতে হয়।

১৯০৩ সালে মেরি, পিয়েরে ও বেকেরেল যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। মেরি হন প্রথম নারী নোবেলজয়ী। ১৯০৬ সালে দুর্ঘটনায় পিয়েরের মৃত্যু হলেও গবেষণা থামাননি তিনি। সরবোনে প্রথম নারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯১১ সালে রেডিয়াম ও পোলোনিয়াম নিয়ে কাজের স্বীকৃতিতে রসায়নে দ্বিতীয় নোবেল পান। দুই ভিন্ন বিজ্ঞান শাখায় নোবেল পাওয়া প্রথম ব্যক্তি তিনিই।

তার কাজের প্রভাব পুরস্কারে সীমাবদ্ধ ছিল না। রেডিয়েশন কাজ করে, তা বোঝার ভিত্তি তৈরি হয়; ক্যানসারের চিকিৎসায় বিকিরণ ব্যবহারের পথও এগোয়। তিনি গবেষণাকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর পক্ষে ছিলেন। রেডিয়াম আলাদা করার পদ্ধতির পেটেন্ট নেননি, যাতে গবেষকেরাও কাজ এগিয়ে নিতে পারেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আহত সৈন্যদের চিকিৎসায় এক্স-রে ব্যবহারের জন্য চলমান রেডিওলজি ইউনিট গড়ে তোলেন মেরি। তবে তেজস্ক্রিয়তার ক্ষতিকর প্রভাব তখন পুরোপুরি জানা ছিল না। দীর্ঘদিন বিকিরণের সংস্পর্শে থাকার পর ১৯৩৪ সালে অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ায় তার মৃত্যু হয়। তার গবেষণা আজও চিকিৎসা ও পদার্থবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ। মেরি কুরির জীবন দেখায়, জ্ঞান অর্জনের পথে বাধা থাকলেও অধ্যবসায় নতুন দিগন্ত খুলতে পারে।

১৮৬৭ সালের ৭ নভেম্বর জন্ম নেন মেরি কুরি। পোল্যান্ড থেকে প্যারিসে গিয়ে বিজ্ঞানের জগতে নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি। আবিষ্কার করেন পোলোনিয়াম ও রেডিয়াম। ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে এবং ১৯১১ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান। তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি বিজ্ঞানের দুটি ভিন্ন শাখায় নোবেল পেয়েছেন। অথচ তার গবেষণার সময় তেজস্ক্রিয়তার ভয়াবহ ঝুঁকি সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল না। ১৯৩৪ সালে মারা গেলেও বিজ্ঞানের ইতিহাসে আজও অমর মেরি কুরি।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি