Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 02:36 am

সিলেটে কঠিন পরীক্ষায় বাংলাদেশ

image

ক্রীড়া প্রতিবেদক: হাসান মাহমুদের জন্য দিনটি ছিল রেকর্ডের, বাংলাদেশের জন্য দুশ্চিন্তার! বল হাতে ক্যারিবীয় ব্যাটিং লাইনআপে কাঁপন ধরিয়ে একের পর এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ডান হাতি এই পেসার। অথচ তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও স্বস্তি ফিরল না বাংলাদেশ শিবিরে। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে স্বাগতিকরা। দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগেই সাজঘরে ফিরেছেন তিন ব্যাটার।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৮৮ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের ৩৫৬ রানের জবাবে এখনও ২৬৮ রানে পিছিয়ে শান্তর দল। দিনের শেষ ভাগে অবশ্য কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছেন তাওহীদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিম। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এসেছে ৩৭ রান। হৃদয় ২৯ এবং মুশফিক ১৯ রানে অপরাজিত আছেন।

বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের শুরুটা হয় ওপেনিংয়ের নতুন সমীকরণ দিয়ে। সাদমান ইসলামের চোটে ইনিংসের গোড়াপত্তনে নামতে হয় নাঈম হাসানকে। টেস্ট ক্যারিয়ারে এর আগে কখনো আট নম্বরের ওপরে ব্যাট না করা এই স্পিনার নতুন দায়িত্বে ব্যর্থ হন। জেইডেন সিলসের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি।

তানজিদ হাসান তামিমও পারেননি ইনিংস বড় করতে। ১৬ রান করে কেভিন উইকহ্যামের হাতে ধরা পড়েন এই ওপেনার। এরপর দলের ভরসা ছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু ৫১ বলে ১৪ রান করে শামার জোসেফের বলে বোল্ড হন তিনি। তাতে ৫১ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ।

বিপর্যস্ত দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব এখন হৃদয় ও মুশফিকের কাঁধে। শেষ সেশনে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে দিন পার করলেও বাংলাদেশের সামনে পথটা বেশ কঠিন। প্রথম ইনিংসের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে হলে পরের দিন বড় সংগ্রহ গড়ার বিকল্প নেই।

অথচ দিনটির শুরুতে দৃশ্যপট ছিল বাংলাদেশের জন্য আশাব্যঞ্জক। নতুন বল হাতে হাসান মাহমুদ যেন একাই তছনছ করে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং পরিকল্পনা। দিনের প্রথম দিকেই টানা দুই বলে ফিরিয়ে দেন সেঞ্চুরিয়ান আমির জাঙ্গো ও রস্টন চেইসকে। ১৩৩ রান করা জাঙ্গোকে বোল্ড করার পর পরের বলেই চেইসের ক্যাচ নেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস।

হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি হয়নি। তবে হাসানের অপেক্ষা ছিল আরও বড় কিছুর। জশুয়া বিশপকে নিজের বলে ক্যাচ তুলতে বাধ্য করলেও প্রথমবার সুযোগটি হাতছাড়া করেন তিনি। পরে অবশ্য লিটনের দুর্দান্ত স্টাম্পিংয়ে বিশপের বিদায় নিশ্চিত হয়। পূর্ণ হয় হাসানের পাঁচ উইকেট। টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে স্টাম্পিংয়ের মাধ্যমে উইকেট পাওয়ার কীর্তিও গড়েন তিনি।

সেখানেই থামেননি হাসান। শামার জোসেফকে বোল্ড করে প্রথমবারের মতো টেস্ট ইনিংসে ছয় উইকেটের স্বাদ পান। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে পাঁচ উইকেট নেওয়ার সংখ্যায় এখন সবার ওপরে তিনি। পাঁচবার ফাইফার নিয়ে ছাড়িয়ে গেছেন শাহাদাত হোসেনকে। পাশাপাশি নাথান লিয়নের পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচটি ফাইফার পাঁচটি ভিন্ন দেশের বিপক্ষে নেওয়ার বিরল কীর্তিও গড়েছেন।

হাসানের এমন বিধ্বংসী বোলিংয়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্রুত গুটিয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু শেষ দিকে জাস্টিন গ্রিভসের ৫০ রান এবং জোমেল ওয়ারিক্যান ও জেইডেন সিলসের শেষ উইকেট জুটির ৩৩ রান সেই অপেক্ষা দীর্ঘ করে। শেষ পর্যন্ত মেহেদী হাসান মিরাজের আঘাতে ৩৫৬ রানে থামে ক্যারিবীয়দের ইনিংস। মিরাজ নিয়েছেন দুটি উইকেট।

ব্যক্তিগত অর্জনে হাসান দিনটিকে নিজের করে নিলেও দলীয়ভাবে বাংলাদেশ এখনও অনেক পিছিয়ে। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় সংগ্রহের জবাবে ব্যাটারদের দায়িত্বহীনতায় কঠিন হয়ে উঠেছে ম্যাচের সমীকরণ। তৃতীয় দিন হৃদয়-মুশফিকের জুটি কতটা দীর্ঘ হয়, সেটিই এখন বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন!