শাহরিয়ার সোহাগ: মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বাস্তবতায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ের উদ্যোগকে অযৌক্তিক বলার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে বাড়তে থাকা নিত্যপণ্যের দাম, বাসা ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য ব্যয়ের চাপে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যায়। ফলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হলে তাদের জীবনযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। রাষ্ট্রের কর্মচারীরা সম্মানজনক বেতন পাবেন, তাদের পরিবার কিছুটা নিরাপদ জীবনযাপন করবে— এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা।
কিন্তু প্রশ্নটি কেবল সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও বড় একটি বিষয়— দেশের বিশাল বেসরকারি কর্মজীবী জনগোষ্ঠীর জীবন ও ভবিষ্যৎ। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য যখন নতুন পে স্কেল, ভাতা, পেনশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয় তখন একই দেশের বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য রাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান কী?
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত। অন্যদিকে বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৯৫ শতাংশই বেসরকারি খাত, কৃষি, শিল্প, সেবা ও আত্মকর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত। অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ক্ষেত্রে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অবদান অনস্বীকার্য। রপ্তানি, শিল্প, ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, গণমাধ্যম, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ প্রায় প্রতিটি খাতেই তাদের শ্রম ও মেধা রয়েছে। অথচ সুযোগ-সুবিধার প্রশ্নে সরকারি ও বেসরকারি কর্মীদের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
একই দেশে দুই ধরনের কর্মজীবন
সরকারি চাকরি আকর্ষণীয় হওয়ার কারণ শুধু মাসিক বেতন নয়। এর সঙ্গে রয়েছে চাকরির তুলনামূলক নিরাপত্তা, নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা সুবিধা, অবসরকালীন সুবিধা ও পেনশন। ফলে একজন সরকারি কর্মচারী তার বর্তমান আয় ছাড়াও ভবিষ্যৎ জীবন সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে বেশি নিশ্চয়তা নিয়ে পরিকল্পনা করতে পারেন।
বেসরকারি চাকরির বাস্তবতা অনেক ক্ষেত্রেই ভিন্ন। একজন বেসরকারি কর্মীর বেতন নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা, ব্যবসার অবস্থা, উৎপাদনশীলতা, মুনাফা ও বাজার পরিস্থিতির ওপর। প্রতিষ্ঠান ভালো করলে বেতন বাড়তে পারে আবার ব্যবসায় মন্দা দেখা দিলে বেতন বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চাকরিও চলে যেতে পারে। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মঘণ্টা দীর্ঘ, ছুটি সীমিত এবং নিয়োগপত্র বা চাকরির শর্ত নিয়েও অনিশ্চয়তা থাকে। অবসরের পর কী হবে, সে বিষয়েও অনেকের সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা নেই। অর্থাৎ পার্থক্যটি শুধু মাসিক বেতনের অঙ্কে নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জীবনযাপনের নিরাপত্তা, ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা এবং পরিবারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা।
একজন সরকারি কর্মচারী নিয়মিত বেতন, ইনক্রিমেন্ট ও অবসরকালীন সুবিধার নিশ্চয়তা নিয়ে সন্তানের শিক্ষা, বাড়ি নির্মাণ কিংবা ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের পরিকল্পনা করতে পারেন। বিপরীতে একজন বেসরকারি কর্মীকে অনেক সময় ভাবতে হয়—আজ যে চাকরি আছে, আগামী বছরও কি থাকবে? এই ব্যবধান আরও দৃশ্যমান হতে পারে যদি সরকারি কর্মচারীদের বেতন বড় হারে বাড়ে কিন্তু বেসরকারি খাতের কর্মীদের আয় একই গতিতে বাড়ে না।
বাড়তি ব্যয়ের বোঝা কত?
নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো— এর অর্থের সংস্থান হবে কীভাবে? নতুন বেতন ও পেনশন কাঠামোর কারণে সরকারের বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকার স্থায়ী ব্যয়ের প্রশ্ন সামনে এসেছে। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘স্থায়ী’। এটি একবারের কোনো ব্যয় নয়। বেতন ও পেনশন বাড়ানো হলে আগামী বছরও সেই বাড়তি অর্থ প্রয়োজন হবে, তার পরের বছরও হবে। এর সঙ্গে নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট ও অন্যান্য ব্যয় যোগ হলে দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের ব্যয়ের চাপ আরও বাড়বে।
সরকারের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উন্নয়ন প্রকল্প পিছিয়ে দেওয়া যায়, কোনো কোনো সরকারি কেনাকাটা স্থগিত করা যায় কিংবা প্রকল্পের সময় বাড়ানো যায়। কিন্তু একবার বেতন ও পেনশন বাড়িয়ে দিলে তা সহজে কমানো সম্ভব নয়। ফলে বাজেটের একটি বড় অংশ দীর্ঘমেয়াদে নির্দিষ্ট ব্যয়ের মধ্যে আটকে যেতে পারে। ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ব্যাংক খাতের পুনর্গঠন, সামাজিক সুরক্ষা কিংবা নতুন অবকাঠামো বিনিয়োগের প্রয়োজন হলে সরকারের হাতে অতিরিক্ত ব্যয় করার জায়গা কমে যেতে পারে।
টাকা আসবে কোথা থেকে?
বাড়তি অর্থের সবচেয়ে স্বাভাবিক উৎস রাজস্ব। বাংলাদেশে করের আওতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বহু মানুষ এখনও করের আওতার বাইরে। কর ফাঁকি ও কর ছাড়ের ব্যাপকতাও দীর্ঘদিনের আলোচিত বিষয়। কিন্তু শুধু কর বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না। দীর্ঘদিনের মূল্যস্ফীতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। বেসরকারি খাতের বহু কর্মীর আয় একই হারে বাড়েনি। ব্যবসা-বাণিজ্যেও নানা চাপ রয়েছে। এই অবস্থায় বাড়তি ব্যয় মেটাতে যদি সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানো হয় তাহলে তার প্রভাব আবারও গিয়ে পড়বে ভোক্তা ও বেসরকারি কর্মজীবীদের ওপর। অর্থাৎ সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর অর্থ যদি শেষ পর্যন্ত করের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হয় তাহলে প্রশ্ন উঠবে— এই ব্যয়ের প্রকৃত বোঝা কে বহন করছে?
আরেকটি পথ হলো সরকারি ব্যয় কমানো। রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো, মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সংখ্যা, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প, ভবন নির্মাণ, গাড়ি ব্যবহার, প্রশিক্ষণ, বৈঠক ভাতা ও অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় পর্যালোচনা করা যেতে পারে। যে ব্যয় সরাসরি নাগরিকসেবা বাড়ায় না সেসব খাতে অপচয় কমিয়ে প্রয়োজনীয় স্থায়ী ব্যয়ের জন্য অর্থের সংস্থান করা সম্ভব কি না সেটিও দেখা দরকার।
ঋণ নিলে চাপ পড়বে কার ওপর?
সরকার চাইলে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকেও ঋণ নিতে পারে, কিন্তু এরও অর্থনৈতিক প্রভাব রয়েছে। সরকার বড় অঙ্কের ঋণ নিলে ব্যাংকগুলোর কাছে রাষ্ট্রকে ঋণ দেওয়া তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। তখন বেসরকারি উদ্যোক্তা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য ঋণ পাওয়া কঠিন হতে পারে অথবা ঋণের ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। ফলে একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে— রাষ্ট্র নিজের কর্মচারীদের বেতন বাড়াবে কিন্তু সেই বাড়তি অর্থের সংস্থান করতে গিয়ে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ব্যাহত হবে। বিনিয়োগ কমলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির গতি কমতে পারে। অর্থাৎ সরকারি বেতন বৃদ্ধির আর্থিক চাপের একটি অংশ পরোক্ষভাবে বেসরকারি খাত, উদ্যোক্তা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের ওপরও পড়তে পারে।
‘সরকারি ও বেসরকারি’ বিভাজনের আশঙ্কা
সরকারি ও বেসরকারি কর্মীদের মধ্যে কোনো বিরোধ তৈরি করা কাম্য নয়। সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু একইসঙ্গে বেসরকারি খাতের কোটি কোটি মানুষের শ্রম, মেধা ও উদ্যোগের অবদানও রাষ্ট্রকে বিবেচনায় নিতে হবে। বেসরকারি কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন, কর্মঘণ্টা, ছুটি, পেনশন ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে কার্যকর নীতিমালা না থাকলে সমাজে বৈষম্যের অনুভূতি বাড়তে পারে। এখানেই ‘ওরা বনাম আমরা’ মানসিকতার প্রশ্নটি সামনে আসে। সরকারি কর্মীরা যদি একের পর এক সুবিধা পান অথচ বেসরকারি কর্মীরা একই মূল্যস্ফীতির বাজারে অনিশ্চয়তা নিয়ে জীবন কাটান তাহলে তাদের মধ্যে বঞ্চনার অনুভূতি তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। রাষ্ট্রের নীতি এমন হওয়া উচিত নয়, যেখানে একটি শ্রেণির স্বস্তি অন্য একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর অনিশ্চয়তাকে আরও প্রকট করে তোলে।
বেসরকারি কর্মীদের জন্য কী করা যেতে পারে?
সরকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বেতন সরাসরি নির্ধারণ করতে পারে না। সেটি সব ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মতও নয়। কিন্তু সরকার একটি ন্যূনতম কর্মসংস্থান কাঠামো তৈরি করতে পারে। চাকরির নিয়োগপত্র বাধ্যতামূলক করা, কর্মঘণ্টা ও ছুটি নিশ্চিত করা, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি প্রতিরোধ, ন্যূনতম মজুরি, চাকরির নিরাপত্তা এবং অবসরকালীন সামাজিক সুরক্ষার মতো বিষয়গুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটি সমন্বিত ‘সার্ভিস রুলস’ কাঠামো নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে সেটিকে বাস্তব রূপ দেওয়ার উদ্যোগও জরুরি। পাশাপাশি সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে কার্যকর ও সহজলভ্য করা গেলে বেসরকারি কর্মীরাও ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা নিশ্চয়তা পাবেন।
শুধু বেতন বাড়িয়ে দুর্নীতি কমবে?
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর পক্ষে একটি যুক্তি হলো— ভালো বেতন দুর্নীতি কমাতে পারে। একজন কর্মচারীর আর্থিক চাপ কমানো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুর্নীতির কারণ শুধু কম বেতন নয়। দুর্বল জবাবদিহি, ক্ষমতার অপব্যবহার, নজরদারির ঘাটতি, শাস্তির অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাবও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি সেবাকে আরও ডিজিটাল করতে হবে। অনলাইনে আবেদন, অনলাইনে ফি পরিশোধ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেবা এবং প্রতিটি ধাপের ডিজিটাল নজরদারি ঘুষ ও হয়রানির সুযোগ কমাতে পারে। রাষ্ট্রের কর্মচারীদের শুধু বেশি বেতন নয়, বেশি জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।
সমাধান কোথায়?
নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারকে কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। প্রথমত, রাজস্ব সংস্কার করতে হবে। করের আওতা বাড়ানো, কর ফাঁকি কমানো এবং কর প্রশাসনকে প্রযুক্তিনির্ভর করার দিকে জোর দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়াতে হবে। অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প, প্রশাসনিক ব্যয়, অতিরিক্ত সুবিধা ও অপচয় কমাতে হবে। তৃতীয়ত, ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে হবে যাতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত না হয়। চতুর্থত, বেসরকারি কর্মীদের জন্য কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো তৈরি করতে হবে। পঞ্চমত, সরকারি-বেসরকারি উভয় কর্মীর জন্য পেনশন ও ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের সুযোগ বিস্তৃত করতে হবে। ষষ্ঠত, বেতন বৃদ্ধিকে দীর্ঘমেয়াদে একটি নিয়মভিত্তিক কাঠামোর মধ্যে আনা যেতে পারে। মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব সক্ষমতা, উৎপাদনশীলতা ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্দিষ্ট নিয়মে বেতন সমন্বয় হলে দীর্ঘ বিরতির পর হঠাৎ বড় আর্থিক চাপ তৈরির ঝুঁকি কমতে পারে।
সরকারি কর্মচারীরা সম্মানজনক বেতন পাবেন— এটি প্রয়োজনীয়। তাদের পরিবার ভালো থাকবে, ভবিষ্যৎ নিরাপদ হবে— এটিও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একইসঙ্গে দেশের বেসরকারি কর্মজীবী মানুষগুলোর জীবনও নিরাপদ হওয়া দরকার। একজন সরকারি কর্মচারীর যেমন সম্মানজনক জীবনযাপনের অধিকার আছে, একজন বেসরকারি কর্মীরও তেমন অধিকার রয়েছে। একজন সরকারি কর্মচারীর ভবিষ্যৎ যেমন নিরাপদ হওয়া দরকার, একজন বেসরকারি কর্মীর ভবিষ্যৎও তেমন নিরাপদ হওয়া উচিত। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হবে কি না তা নয়। বড় প্রশ্ন হলো— এই বাড়তি ব্যয় রাষ্ট্র কীভাবে দীর্ঘমেয়াদে বহন করবে এবং এর অর্থনৈতিক চাপ কার ওপর পড়বে। করদাতা, ভোক্তা, উদ্যোক্তা, বেসরকারি কর্মী কিংবা অন্য কোনো সরকারি খাত— যেখানেই চাপ পড়ুক তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত অর্থনীতির ওপরই পড়বে। তাই সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি যদি বাস্তবায়িত হয় তার পাশাপাশি বেসরকারি কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন, সামাজিক সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তার বিষয়টিও রাষ্ট্রীয় নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া প্রয়োজন। কারণ অর্থনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি কোনো একটি শ্রেণি নয়; দেশের সব কর্মজীবী মানুষ।
-গণমাধ্যমকর্মী